‘কুড়িগ্রামকে আর অনগ্রসর জেলা বলা হবে না’
সূত্রঃ ছবি: বিডিমেইল
শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
‘কুড়িগ্রামকে আর কেউ অনগ্রসর জেলা হিসেবে উল্লেখ করবেন না’—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কুড়িগ্রাম-৩ ও কুড়িগ্রাম-৪ সংরক্ষিত নারী আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় কুড়িগ্রামের উন্নয়ন, সম্ভাবনা, বিদ্যমান সমস্যা, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন সুরাইয়া জেরিন রনি।
তিনি বলেন, নদ-নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম একটি সম্ভাবনাময় জেলা। এখানকার মানুষ পরিশ্রমী, মাটি উর্বর। প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে জেলার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর উদ্যোগ এবং তা বাস্তবায়নে আন্তরিকতা।
সুরাইয়া জেরিন রনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রামকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে থাকা জেলা হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে জেলার নদ-নদী, চরাঞ্চল, কৃষি, সীমান্তবাণিজ্য, পর্যটন ও মানবসম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে কুড়িগ্রামের চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব।
জেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্ভাবনার পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্রও তার নজরে এসেছে। কোথাও সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, আবার কোথাও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এসব বিষয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা অনিয়ম-অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন এবং শক্ত হাতে কলম ধরবেন। তবে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। একটি এলাকার প্রকৃত চিত্র প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনেক সময় গণমাধ্যমের মাধ্যমেই পৌঁছে যায়। তাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি সম্ভাবনা ও উন্নয়নের পথও দেখাতে হবে।
সুরাইয়া জেরিন রনি বলেন, সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা করা উচিত। তিনি নিজেও কোনো অনিয়ম করলে তার সমালোচনা করার আহ্বান জানান। তার মতে, গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয় এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়তা করে।
সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের যেন চাপের মুখে পড়তে না হয়। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশে দায়িত্বশীলতা, সত্যতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কুড়িগ্রামের উন্নয়নে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, নদীভাঙন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, কৃষি ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনদুর্ভোগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু, হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি শফি খান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকারসহ জেলা মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
এমকে









