জুলাই আন্দোলনকারীদের নিয়ে ফেসবুক পোস্টের জেরে জাবির শিক্ষার্থী আটক, পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৬ এএম
জুলাই আন্দোলনকারীদের নিয়ে ফেসবুক পোস্টের জেরে জাবির শিক্ষার্থী আটক, পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর

সূত্রঃ সংগৃহীত

**জাবি প্রতিনিধি**


ফেসবুকে জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘জুলাই জঙ্গি’ ও ‘জুলাই মুরতাদ’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারাফাত শারিক রোহানকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।


বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে তাঁকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।


এদিকে একই দিনে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পারস্পরিক সমন্বয় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল।


জানা যায়, বুধবার শারাফাত শারিক রোহানের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে করা দুটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।


প্রথম পোস্টে তিনি লেখেন, *“সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে, দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, শত শত নিরীহ মানুষের লাশের ওপর পা মেরে রাজনীতি করা জুলাই জঙ্গিদের পতন সমাগত। সত্য প্রকাশিত হবেই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সত্যবাদীদের সঙ্গে আছেন। জুলাই মুর্দাবাদ। মুক্তিযুদ্ধ জিন্দাবাদ। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।”*


অন্য একটি পোস্টে তিনি মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই আন্দোলন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী নিয়ে মন্তব্য করেন। পোস্ট দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা তাঁকে হল থেকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। পরে প্রশাসন তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।


অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শারাফাত শারিক রোহান বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গসংগঠন কিংবা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। কেউ আমাকে কোনো প্ররোচনা বা পরামর্শও দেয়নি। আমি আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ বিভিন্ন সময় ফেসবুকে প্রকাশ করেছি। ‘জুলাই জঙ্গি’ ও ‘জুলাই মুরতাদ’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা আমার অনুচিত হয়েছে। জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষের আবেগের জায়গা। সেখানে আঘাত করা আমার ঠিক হয়নি। এজন্য আমি অনুতপ্ত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।”


তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনকে লক্ষ্যবস্তু করা আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে গিয়ে শব্দচয়নে ভুল হয়েছে।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, “প্রক্টরিয়াল বডি তাঁকে হল থেকে নিয়ে আসার সময় তাঁর ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিও ক্লিপে কিছু আলামত পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় প্রচলিত আইনের পরিপন্থী বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা, প্রাপ্ত আলামত এবং অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে।”


তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কয়েকজন বন্ধু তাঁর মানসিক সমস্যার বিষয়েও কথা বলেছেন। সেটি কতটা সত্য এবং ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও তদন্ত কমিটি যাচাই করবে। আপাতত প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”



এমকে/বিএম২৪