‘শাহবাগ দখলের প্রথম মিছিলে ছিলাম’—শিবলী

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
‘শাহবাগ দখলের প্রথম মিছিলে ছিলাম’—শিবলী

সূত্রঃ সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক


ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি আজ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দীর্ঘ এক মাসের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। ছাত্র-জনতার সেই আন্দোলনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বিজয়ের সেই দিনটি ঘিরে নিজেদের স্মৃতি ভাগাভাগি করছেন বিভিন্ন তারকা। সেই ধারাবাহিকতায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন লেখক ও গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী।


শিবলীর ভাষ্য, তার জন্য ৫ আগস্টের শুরু হয়েছিল আগের রাত থেকেই। ৪ আগস্ট রাতে শাহবাগে জমায়েতের পরিকল্পনা থাকায় তিনি ও তার সঙ্গীরা সারারাত উদ্বেগে কাটান। চারদিকে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির মধ্যেও শাহবাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেই রাতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘হাসবুনাল্লাহি ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল, ডু অর ডাই, আগামীকাল শাহবাগে থাকব।’ একই সঙ্গে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, যেন ৫ আগস্টের সকালটি সবার জন্য কল্যাণকর হয়।


পরদিন সকালে শাহবাগসংলগ্ন আজিজ মার্কেট ও পিজি হাসপাতালের মাঝের গলিতে পৌঁছে তিনি দেখেন, সেখানে মাত্র ১০-১২ জন উপস্থিত হয়েছেন। তিনি সবাইকে সাহস জুগিয়ে বলেন, আন্দোলনের সাফল্য আজ না হলে কাল আসবেই এবং সরকারের পতন অনিবার্য।


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কয়েকশ মানুষ জড়ো হলে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে কিছু দূর এগোতেই সেনাসদস্যরা মাইকে মিছিল থামানোর নির্দেশ দেন এবং অস্ত্র তাক করে সতর্ক করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা তখন গলির ভেতরে ফিরে যান।


শিবলী জানান, জোহরের আজানের পর গলিতে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ জমায়েত হয়। আজান শেষ হতেই সবাই একযোগে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হন। এবার সেনাসদস্যরা আর বাধা না দিয়ে পথ ছেড়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি গর্ব করে বলতে পারি, শাহবাগ দখলের প্রথম দলটির সঙ্গে আমি ছিলাম।’


এর কিছুক্ষণ পরই সেনাপ্রধানের ভাষণের খবর আসে এবং জানা যায়, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। শিবলীর ভাষায়, সেদিনই তারা ঐতিহাসিক বিজয়ের সাক্ষী হন।


তিনি আরও জানান, শাহবাগ থেকে জনতা গণভবনের দিকে রওনা দিলে পান্থপথ মোড়ে এসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে আবার বের হন। তখন তিনি দেখেন, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আগুন জ্বলছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জাতীয় পতাকা হাতে বিজয় মিছিল করছে মানুষ।


জীবনের দুটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হওয়ার কথা উল্লেখ করে শিবলী বলেন, একটি ছিল এরশাদ সরকারের পতন এবং অন্যটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন।



এমকে/বিএম২৪