ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে বড় রদবদল, আলোচনায় রিজভী

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৬ এএম
ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে বড় রদবদল, আলোচনায় রিজভী

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক



মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি দলটির স্থায়ী কমিটিতেও দুটি পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।


দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে আপাতত কাউকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি পদ শূন্য হবে। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হওয়ায় স্থায়ী কমিটির আরেকটি পদ শূন্য হয়েছিল। ফলে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দুটি পদে নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


তবে বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরের দিকে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সে কারণে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে এখনই কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করার সম্ভাবনাও রয়েছে।


মহাসচিব পদে তুলনামূলক তরুণ ও কর্মীবান্ধব নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তার মতে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দ এবং তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবেন—এমন নেতাকেই এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।


মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তার পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই নেবেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।


নিজের সম্ভাব্য দায়িত্ব নিয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য রেখে কাজ করছেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। দল তাকে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেটি চেয়ারম্যান ও দলের নীতিনির্ধারকেরাই ঠিক করবেন।


বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনাকে এগিয়ে রাখছেন। তার ভাষ্য, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে রিজভীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যান চাইলে অন্য কাউকেও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিতে পারেন বলে জানান তিনি।


এদিকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের জন্য আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।


মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার সংসদীয় আসনও শূন্য হবে। ওই আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। ফখরুলের পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হবে, নাকি অন্য কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে—এ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।


সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে বিএনপির মহাসচিব পদ, স্থায়ী কমিটি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং তার সংসদীয় আসন—চার ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।



এমকে/বিএম২৪