১২ শিক্ষক, ১২ পরীক্ষার্থী—পাস করেনি কেউ
সূত্রঃ সংগৃহীত
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চবিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। শুধু তালতলা উচ্চবিদ্যালয় নয়, জেলার আরও তিনটি বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শতভাগ অকৃতকার্য অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো—রাজারহাটের ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ১৮টি বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় রয়েছে।
তালতলা উচ্চবিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে জুনিয়র পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী এবং প্রধান শিক্ষকসহ ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বাধন কুমার রায় জানায়, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে এলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। অনেক শিক্ষার্থী বিয়ে কিংবা কর্মসংস্থানের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। পাশাপাশি ভালো শিক্ষার্থীদের অনেকে শহরের বিদ্যালয়ে চলে যায়। এসব কারণেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজারহাটের ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২৫ জন শিক্ষার্থী ও নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজনের কেউই পাস করেনি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার মাত্র একজন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেও অকৃতকার্য হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এবার চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউই পাস করেনি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী ও ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম বলেন, বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের কারণে অনেক ছাত্রী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এবার জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন।
তিনি বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









