চট্টগ্রামে এসএসসি ফলে বড় ধস, ৮ বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ এএম
চট্টগ্রামে এসএসসি ফলে বড় ধস, ৮ বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ

সূত্রঃ ফাইল ছবি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি


চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডের পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ১৪৫ জন। বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও দেখা গেছে নেতিবাচক প্রবণতা। এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল একটি।


সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফল প্রকাশের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।


এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। ফলে ৫২ হাজার ৭৬৬ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। বোর্ডের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ।


কমেছে জিপিএ-৫


ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো জিপিএ-৫ কমে যাওয়া। এবার ৯ হাজার ৬৯৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর পেয়েছিলেন ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ১৪৫ জন।


৮ বিদ্যালয়ে শূন্য পাস


এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয় ছিল মাত্র একটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের বিদ্যালয় বেড়েছে সাতটি।


অন্যদিকে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কমেছে। এবার ২১টি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি।


পাঁচ জেলাতেই কমেছে পাসের হার


চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলা ও মহানগরের সব কটিতেই গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে।


চট্টগ্রাম মহানগরে এবার পাসের হার ৭৪ শতাংশ, গত বছর ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।


কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে পাসের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, গত বছর ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বান্দরবানে এবার ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, গত বছর এ হার ছিল ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।


সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে খাগড়াছড়িতে। এবার জেলার পাসের হার ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে পাসের হার কমেছে ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।


মানবিকে পাস ৪০ শতাংশের নিচে


বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ। তবে মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।


অর্থাৎ মানবিক বিভাগের ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জনের বেশি এবার উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের পাসের হারের ব্যবধান ৪৫ দশমিক ৬২ শতাংশ।


ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে


লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে ছাত্রীদের পাসের হার সামান্য বেশি। এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।


সামগ্রিক ফলাফলের এই অবনতির কারণ নিয়ে এখন বিস্তারিত বিশ্লেষণের প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে আটটি বিদ্যালয়ে শূন্য পাস, খাগড়াছড়িতে পাসের হারে বড় পতন, মানবিক বিভাগের কম ফল এবং জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার বিষয়গুলো আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।


ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, শিক্ষকসংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অবকাঠামো ও অন্যান্য বিষয় কতটা প্রভাব ফেলেছে—তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।