দুই শিক্ষার্থী, ১০ শিক্ষক—তবুও পাস করেনি কেউ

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৯ এএম
দুই শিক্ষার্থী, ১০ শিক্ষক—তবুও পাস করেনি কেউ

সূত্রঃ সংগৃহীত

খুলনা ব্যুরো ও ডুমুরিয়া প্রতিনিধি


খুলনা নগরীর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। অথচ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়েছিল মাত্র দুই শিক্ষার্থী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।


একই চিত্র দেখা গেছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন।


সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর খুলনার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তখন এ দুটি বিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।


যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার খুলনা জেলার ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ হাজার ৪২১ জন। জেলার মাত্র দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী এবার পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।


ফল প্রকাশের পর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকও তালাবদ্ধ ছিল।


পরে মুঠোফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পাঠদান করেন বলে দাবি করেন তিনি।


তিনি বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির দুজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে।


অন্যদিকে, ডুমুরিয়ার ধামালিয়া ইউনিয়নের কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের সবাই ফেল করেছে।


বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা না করায় এমন ফল হয়েছে। বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন এবং শিক্ষকদের কোনো ত্রুটি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, বিদ্যালয় ও বাড়িতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা না করলে শুধু শিক্ষকরা তাদের পাস করাতে পারবেন না।