খাগড়াছড়ির তিন বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ
সূত্রঃ ফাইল ছবি
বিপ্লব তালুকদার, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়িতে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান তিনটিতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪২ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ভাইবোনছড়া গার্লস হাই স্কুল, জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাই স্কুল এবং তারাবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা অফিস প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, জেলার স্কুল পর্যায়ে এবার মোট ৭ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৬ জন। ফলে জেলায় স্কুল পর্যায়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ জন।
উপজেলাভেদেও ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় পাসের হার ৫০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হলেও দীঘিনালায় তা নেমে এসেছে ২২ দশমিক ৮৭ শতাংশে। পানছড়িতে ৩১ দশমিক ৫২, মহালছড়িতে ২৯ দশমিক ৬৩, মাটিরাঙ্গায় ৩২ দশমিক ১৮, গুইমারায় ৩১ দশমিক ১২, মানিকছড়িতে ৪০ দশমিক ২১, রামগড়ে ৩৪ দশমিক ৬৬ এবং লক্ষ্মীছড়িতে ৩৪ দশমিক ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
সাবেক শিক্ষক আবু সমা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতে হয়। বর্ষায় পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতিতেও সমস্যা তৈরি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়ে ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে রয়েছে। বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে শুধু শিক্ষক সংকট, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা কিংবা আর্থিক সমস্যাকে ফল খারাপের কারণ হিসেবে ধরে না নিয়ে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল নিয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান হয়েছে কি না, শিক্ষকদের উপস্থিতি কেমন ছিল, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে কি না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি কতটা কার্যকর ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফলাফল পর্যালোচনা করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।









