জিততে হলে বাংলাদেশকে পার হতে হবে ৩ চ্যালেঞ্জ
সূত্রঃ সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্ক
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই। তবে অস্ট্রেলিয়া যেভাবে দিন শেষ করেছে, তাতে চতুর্থ দিনের শুরুতেই বদলেযেতে পারে ম্যাচের চিত্র। বাংলাদেশের সামনে যেমন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের হাতছানি, তেমনি স্বাগতিকদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ বড় সুযোগ।
তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ২২৮ রানে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিকরা এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে। হাতে রয়েছে ছয় উইকেট।
বাংলাদেশের জন্য তাই সমীকরণ এখনো স্বস্তির। তবে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারির জুটি ভাঙতে না পারলে অস্ট্রেলিয়া বড় লিড নিয়ে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারে।
তিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের জয়
প্রথম চ্যালেঞ্জ—সকালে দ্রুত উইকেট নেওয়া।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জরুরি কাজ হবে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার বাকি ছয় উইকেট তুলে নেওয়া।
গ্রিন ৪৩ ও ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত। এই জুটি দ্রুত ভাঙতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডারকে খুব বেশি রান করার সুযোগ দেওয়া হবে না। কিন্তু তারা যদি প্রথম ঘণ্টা পার করে দেন, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার লিড দ্রুত বাড়তে পারে।
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ—লিড ১০০ রানের মধ্যে আটকে রাখা।
অস্ট্রেলিয়া এখন ৬৭ রানে পিছিয়ে। কিন্তু শুধু এই ঘাটতি পূরণ করলেই বাংলাদেশের কাজ শেষ হবে না। অস্ট্রেলিয়া যত বেশি লিড নেবে, চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের লক্ষ্য তত কঠিন হবে।
অস্ট্রেলিয়া যদি ৩০০ রানে অলআউট হয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে ৭৩ রান। ৩৫০ হলে লক্ষ্য ১২৩। আর ৪০০ রানে পৌঁছালে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৭৩ রান।
তাই অস্ট্রেলিয়াকে ২৫০ থেকে ২৮০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে বাংলাদেশ সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ—চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং।
অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে থামানোর পরও বাংলাদেশের কাজ সহজ হবে না। জশ হ্যাজলউড ইতোমধ্যে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন। তার সঙ্গে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের মতো পেসাররা থাকায় ছোট লক্ষ্যও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে শুরুতেই কয়েকটি উইকেট হারালে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অস্ট্রেলিয়ার হাতে চলে যেতে পারে। তাই রান তাড়ার ক্ষেত্রে আগ্রাসনের চেয়ে উইকেট ধরে রাখাই হবে বাংলাদেশের মূল কৌশল।
গ্রিন-ক্যারি জুটিই এখন বড় শঙ্কা
তৃতীয় দিনের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে গ্রিন ও ক্যারির জুটি। গ্রিন সেট হয়ে গেলে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য রাখেন। ক্যারিও নিচের দিকে নেমে দ্রুত রান তুলতে পারেন।
এই জুটি যদি আরও ৫০-৬০ রান যোগ করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়বে। আর গ্রিন যদি শতকের কাছাকাছি পৌঁছে যান, ম্যাচের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।
মিরাজ-তাইজুলের ওপরও নজর
ডারউইনের উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো। ফলে বাংলাদেশের স্পিনারদের জন্য কাজটা সহজ হবে না। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজ স্টিভ স্মিথকে এবং তাইজুল ইসলাম মারনাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
চতুর্থ দিনে তাদের শুধু উইকেট নিলেই হবে না, রানও আটকে রাখতে হবে। অস্ট্রেলিয়া যত বেশি সময় ব্যাট করবে, বাংলাদেশের ওপর চাপ তত বাড়বে।
অন্যদিকে হাসান মাহমুদও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দুই ওপেনারকে ফিরিয়েছেন তিনি। নতুন বলের পাশাপাশি পুরোনো বলেও দ্রুত উইকেট এনে দিতে পারলে বাংলাদেশের জয়ের পথ অনেকটাই সহজ হবে।
বড় লিড নিলেই বিপদ
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শঙ্কা হবে অস্ট্রেলিয়ার ১৫০ বা তার বেশি রানের লিড। এমন হলে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে।
১০০ রানের নিচে লক্ষ্য থাকলে বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকবে। ১০০ থেকে ১৩০ রানও তাড়া করা সম্ভব। কিন্তু লক্ষ্য ১৫০ পেরিয়ে গেলে চাপ বাড়বে। আর অস্ট্রেলিয়া যদি ২০০ রানের বেশি লিড নিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস গড়া কঠিন হয়ে যাবে।
ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এখনো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। ডারউইনে সেই ইতিহাস বদলের সুযোগ এখন হাতের নাগালে।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে যাচ্ছে চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টা। গ্রিন-ক্যারির জুটি দ্রুত ভাঙতে পারলে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে ধরে রাখতে পারবে। অস্ট্রেলিয়ার লিড ১০০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে জয়ের সম্ভাবনাও থাকবে প্রবল।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সমীকরণ পরিষ্কার—সকালে দ্রুত উইকেট, অস্ট্রেলিয়ার লিড যতটা সম্ভব কম রাখা এবং এরপর হ্যাজলউড-স্টার্কদের সামলে লক্ষ্য তাড়া করা।
ডারউইনে ইতিহাস লিখবে বাংলাদেশ, নাকি ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেবে অস্ট্রেলিয়া—এর উত্তর মিলবে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই।









