কোদালের কোপে মিলল ১২০ কোটি টাকার সোনার গুপ্তধন

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
কোদালের কোপে মিলল ১২০ কোটি টাকার সোনার গুপ্তধন

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


বেলজিয়ামের ডেন্ডারমন্ড অঞ্চলে নির্মাণকাজের সময় মাটি খুঁড়তে গিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা ও সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ শ্রমিক। আনুমানিক ৯০ লাখ ইউরো মূল্যের এই গুপ্তধনের বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা।


গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে হাতখরচের জন্য নির্মাণশ্রমিকের কাজ নিয়েছিলেন কোবে নামের ওই তরুণ। ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ভ্যান ল্যাঙ্গেনহোভেসত্রাত এলাকার একটি পুরোনো মদ তৈরির কারখানায় পয়োনিষ্কাশনের পাইপ বসানোর জন্য মাটি খোঁড়ার সময় হঠাৎ ধাতব কিছুর সঙ্গে তাঁর কোদালের আঘাত লাগে।


প্রথমে সেটিকে সাধারণ কোনো পুরোনো মুদ্রা মনে করেছিলেন কোবে। কিন্তু কাদা সরাতেই বেরিয়ে আসে একটি সোনার বার। এরপর সেখানে খোঁজ চালিয়ে পাওয়া যায় বিপুলসংখ্যক সোনার মুদ্রা, সোনার টুকরো এবং নম্বরযুক্ত সোনার বার।


তদন্তে জানা গেছে, ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই মদ কারখানার মূল মালিক ছিলেন থিওফিলাস ভ্যান আস। ধারণা করা হচ্ছে, উনিশ শতকের শেষ দিকে তাঁর পুরোনো বাড়ির বেজমেন্টের ইটের দেয়ালের আড়ালে ব্যাগে করে এসব মূল্যবান সম্পদ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ১৯৭০ সালে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন সেগুলো সেখানেই ছিল।


এত বিপুল সম্পদ পাওয়ার পরও কোবে ও তাঁর সহকর্মীরা তা নিজেদের কাছে রাখেননি। তাঁরা বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানান। পরে নিরাপত্তার কারণে উদ্ধার করা সোনা ব্রাসেলসে স্থানান্তর করা হয়েছে।


কোবে বলেন, কয়েকটি মুদ্রা হলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু এত বড় সম্পদের মালিক হওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদ তুলে দেওয়াকেই তাঁরা দায়িত্ব মনে করেছেন।


এদিকে, উদ্ধার হওয়া গুপ্তধনের প্রকৃত মালিক কে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের কৌঁসুলি কার্যালয় সম্পদগুলো কোনো চুরি বা অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তদন্ত করছে।


ভবনটির বর্তমান মালিক সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ‘সিএডব্লিউ উস্ট-ফ্ল্যান্ডার্ন’, নির্মাণশ্রমিক এবং সাবেক মালিকের উত্তরাধিকারীদের মধ্যেও মালিকানা নিয়ে দাবি উঠতে পারে। বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, মূল মালিক বা তাঁর প্রতিনিধিদের দাবির সুযোগ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়।


তবে বিপুল এই গুপ্তধনের শেষ মালিকানা কার হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। আর কোদালের এক আঘাতে কোটি টাকার সম্পদ আবিষ্কার করা তরুণ কোবে এখন অপেক্ষায়—এই সততার পুরস্কার হিসেবে তিনি শেষ পর্যন্ত কী পান।