নিজামপুরে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আলোচনায় খান মোহাম্মদ আলী রাজা

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
নিজামপুরে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আলোচনায় খান মোহাম্মদ আলী রাজা

সূত্রঃ সংগৃহীত

আতিকুজ্জামান, শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি


যশোরের শার্শা উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি পরিচিত নাম খান মোহাম্মদ আলী রাজা। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা ও কারাভোগের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী এবং ১১ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।


শিক্ষাজীবনে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর এবং পরে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন রাজা। বর্তমানে তিনি যশোর জজ কোর্টে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন।


২০০৭ সালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। সরকারি এম এম কলেজে ছাত্রদলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কলেজ শাখার অনুমোদিত কমিটি না থাকলেও দলীয় কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।


পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যশোর জেলা ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্য এবং ২০২১ সালের মে পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনপি ও তৎকালীন ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন।


রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে হামলা ও মামলার মুখে পড়ার কথাও উল্লেখ করেছেন রাজা। ২০১৬ সালে আরাফাত রহমান কোকোর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি এবং ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবরের হরতালে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে চারটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।


এ ছাড়া ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৬ ও ২০২১ সালে শার্শা এবং এম এম কলেজ এলাকায় বিভিন্ন হামলায় আহত হওয়ার দাবি রয়েছে তাঁর। ২০১৩ ও ২০২৩ সালের ঢাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে আহত হওয়ার কথা জানান তিনি।


রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থাকার দাবি করেন রাজা। শার্শার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, বন্যার্তদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ, অসুস্থ নেতাকর্মীদের চিকিৎসা, রক্তের ব্যবস্থা এবং আইনি সহায়তায় পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তাঁর সহযোগীরা।


এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে তিনি গণসংযোগ করছেন। একই সঙ্গে শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদেও প্রার্থী হয়েছেন।


স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে খান মোহাম্মদ আলী রাজা এলাকায় পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তবে নির্বাচনে তাঁর অবস্থান কতটা শক্তিশালী হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় ভোটারদের সমর্থনের ওপর।