চট্টগ্রামে অর্ধকোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি
সূত্রঃ সংগৃহীত
মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে প্রবাসী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসী। ওই ব্যবসায়ী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুড়। সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় প্রবাসীর নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর নাম মোহাম্মদ শওকত। তিনি দুবাইতে তার নিজের ব্যবসা রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, সোমবার দুপুরে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিদেশি একটি নম্বর থেকে একটি ভয়েস রেকর্ড আসে। ভয়েস রেকর্ডে বলা হয়, কাতার থেকে কল করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আমাদের দেশে-বিদেশে ব্যবসা আছে, বিল্ডিং আছে। অনেক টাকা ভাড়া পান, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। তার এক ছোট ভাইয়ের হাতে টাকাটা দিতে হবে। টাকা দিতে রাজি হলে যেন তাকে জানানো হয়। তারপর ওই ছোট ভাইয়ের মোবাইল নম্বর এবং টাকাটা কোথায় দিতে হবে সেটা জানাবেন।
আমার ছেলে বিষয়টি আমাকে জানালে, আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে বলি। এবং নম্বরটি ব্লক করে দিতে বলি। এরপর রাতে দুজন অস্ত্রধারী এসে বাসায় গুলি করে যায়।
গুলির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, রাত ১১টার দিকে দুজন যুবক আমাদের ভবনের নিচে আসে। এদের একজনের হাতে অস্ত্র ছিল। এসে দাড়োয়ানকে গেট বন্ধ করে দিতে বলে। দাড়োয়ান কেন বন্ধ করবে, জানালে তারা তাকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায়। পরে দাড়োয়ান গেট বন্ধ করে তার রুমে চলে যায়। এরপর তারা গেটে দুটি গুলি করে আবার হেঁটে চলে যায়।
ইউসুফ আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনার সময় তিনিসহ পরিবারের সব সদস্য ঘরেই ছিলেন। গোলাগুলির ঘটনার পর তারা সবাই ও স্থানীয়রা বাসার নিচে আসলেও গুলিকরা যুবকদের আর দেখা যায়নি।
ঘটনার সময় লোডশেডিং চলায় দাড়োয়ানও তাদের চেহারা ঠিকভাবে দেখেনি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রথমে জানতে পারি হামজারবাগে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি করা হয়েছে। পরে জানতে পারি, সেটি স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আজিজের শ্বশুরবাড়ি। তবে আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও ধরতে কাজ করছি।
এদিকে শওকতের মেয়ের জামাই আজিজুর রহমান আজিজ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুদিন পর গ্রেপ্তার হন। তিনি এখন কারাগারে আছেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে হামলা,হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।








