বেড়ায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চায়না দুয়ারী জালের রমরমা

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০১ এএম
বেড়ায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চায়না দুয়ারী জালের রমরমা

সূত্রঃ সংগৃহীত

পাবনা প্রতিনিধি


পাবনার বেড়া উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারী’ জাল তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বেড়া পৌরসভার বনগ্রাম এলাকার কয়েকটি কারখানায় দিন-রাত এসব নিষিদ্ধ জাল তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নাজিম বাজারে প্রকাশ্যেই চলছে এর কেনাবেচা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের আঁধারে ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এসব জাল পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, বনগ্রাম এলাকা বর্তমানে চায়না দুয়ারী জাল তৈরির অন্যতম বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এলাকার কয়েকটি কারখানায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জাল তৈরি করা হয়। পরে রাতের আঁধারে বিভিন্ন যানবাহন ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।


এলাকাবাসীর দাবি, নিষিদ্ধ এই জালের উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, চায়না দুয়ারী জাল ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলাল মোল্লা নামে এক ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রভাব ও মদতেই নাজিম বাজারে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জালের কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ তাদের।


সচেতন নাগরিকদের মতে, চায়না দুয়ারী জালের ফাঁস খুব ছোট হওয়ায় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও এতে আটকা পড়ে। বিশেষ করে রেণু পোনা, ছোট মাছ ও ডিমওয়ালা মা মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এতে জলজ জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ীভাবে কার্যকর হচ্ছে না। অভিযানের পর কিছুদিন উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ থাকলেও পরে আবার আগের মতো কার্যক্রম শুরু হয়। এতে মূল ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকরা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, বনগ্রামের অবৈধ কারখানাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নাজিম বাজারসহ বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত অভিযান এবং স্থানীয় কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর পার্সেল বুকিংয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


নিষিদ্ধ এ জালের উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বিত ও কার্যকর অভিযান চান স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা।