৭৬ জন থেকে পৌনে ৩ লাখ, ২৫ বছরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এর উত্থান-পতন

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১২ এএম
৭৬ জন থেকে পৌনে ৩ লাখ, ২৫ বছরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এর উত্থান-পতন

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট। এ বছরের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুই সূচকেই আগের বছরের তুলনায় পতন দেখা গেছে। ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।


গত ২৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর পর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েকশ থেকে ধীরে ধীরে কয়েক লাখে পৌঁছেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবারও কমছে সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।


২০০১ সালে গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর প্রথম বছর মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০০২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৩৩০ জন। ২০০৩ সালে ১ হাজার ৩৯২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে।


এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ২০০৪ সালে ৮ হাজার ৫৯৭ জন, ২০০৫ সালে ১৭ হাজার ৬৩১ জন এবং ২০০৬ সালে ২৪ হাজার ৩৮৪ জন জিপিএ-৫ পায়। ২০০৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৭৩২ জন।


২০০৮ সালে ৪১ হাজার ৯১৭ জন এবং ২০০৯ সালে ৪৫ হাজার ৯৩৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো এই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর ৫২ হাজার ১৩৪ জন সর্বোচ্চ গ্রেড পায়। ২০১১ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৬২ হাজার ২৪৪ জন।


২০১২ সালে ৮২ হাজার ২১২ জন এবং ২০১৩ সালে ৯১ হাজার ১২২ জন জিপিএ-৫ পায়। এরপর ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাখ ছাড়ায়। ওই বছর ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করে।


পরবর্তী কয়েক বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাখের আশপাশে ছিল। ২০১৫ সালে ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন, ২০১৭ সালে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন, ২০১৮ সালে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন এবং ২০১৯ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন জিপিএ-৫ পায়।


করোনার সময়ে ২০২০ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে হয় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন। ২০২১ সালে অটোপাসের কারণে এ সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন।


এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড ২০২২ সালে। ওই বছর ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করে।


এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমতে থাকে। ২০২৩ সালে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।


সবশেষ ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, কয়েক দশকের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েকশ থেকে কয়েক লাখে পৌঁছালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবারও তা নিম্নমুখী।


এদিকে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৭ সালে সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।




এমকে/বিএম২৪