সিংগাইরে নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
সিংগাইরে নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সূত্রঃ সংগৃহীত

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি


মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর সদরের আঙ্গারিয়া মহল্লায় নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে সেলিনা আক্তার (৪২) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


নিহত সেলিনা আক্তার দুই সন্তানের জননী। তিনি জেলার শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সিংগাইর গ্রীন স্ট্রিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে আঙ্গারিয়া (বেপারীপাড়া) মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।


সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বুধবার (১৯ আগস্ট) জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।


তবে নিহতের স্বজনরা ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সেলিনার বড় বোন রামেসা বেগমের অভিযোগ, মোবাইল ফোনে বোনের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি বাসায় গিয়ে দেখেন, তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সেলিনার মরদেহ একটি ভ্যানে তোলার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানান। রামেসার দাবি, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।


নিহতের আরেক বোন আনিসা বেগম অভিযোগ করেন, সেলিনার স্বামীর পরকীয়ার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।


অন্যদিকে সেলিনার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ঘটনার আগে ওই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে টেলিফোনে ঝগড়ার একপর্যায়ে অভিমান করে সেলিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করেন তিনি।


এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহির সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


জাহাঙ্গীর আলমের মা রাশেদা বেগম বলেন, স্কুল থেকে সেলিনা বাড়ি ফেরার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পর নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে ছিল শুনেছি, এখন নেই।’


সিংগাইর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।


ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সেলিনা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।