বাবার সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ, ইনফ্লুয়েন্সারসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
বাবার সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ, ইনফ্লুয়েন্সারসহ গ্রেপ্তার ২

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির অভিযোগে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার ও তার সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই ঘটনায় মেয়ের কর্মকাণ্ডে সহায়তা ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।


ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল রাজধানীর বসুন্ধরা ও বাড্ডা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।


গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত ১০ আগস্ট নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির প্রচারণা নজরে আসে। পরে তদন্তে উঠে আসে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ নিয়ে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করা হতো। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ও বিক্রি করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।


ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের পর ১১ আগস্ট রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সুমাইয়াকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।


পরে সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী ও প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।


গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া ও তার কয়েকজন সহযোগীর সংঘবদ্ধভাবে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদ মেয়ের এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তাকে বাধা না দিয়ে কথিত অনৈতিক আয়ের অংশ নিতেন।


এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় মামলা করা হয়েছে।


মামলাটির আরও তদন্ত এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।