চবি সায়েন্টিফিক সোসাইটির উদ্যোগে এআই প্রম্পটিং নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
চবি সায়েন্টিফিক সোসাইটির উদ্যোগে এআই প্রম্পটিং নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা

সূত্রঃ সংগৃহীত

আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহার শেখাতে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আর্ট অব এআই প্রম্পটিং: অপটিমাইজিং স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে চিটাগং ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটি (সিইউএসএস)।


বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে এআই প্রম্পটিং, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহার এবং বিভিন্ন এআইভিত্তিক টুলের ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।


কর্মশালাটির পৃষ্ঠপোষক ছিল শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট। সহ-আয়োজক ছিল নিম্ফ সলিউশান্স লিমিটেড ও কিএ হারবার লিমিটেড এবং কারিগরি অংশীদার ছিল অটোলিনিয়াম।


অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন সিইউএসএসের উপদেষ্টা ও কর্মশালার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রুবাইয়া ইয়াসমিন, শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের সচিব এ ওয়াই মোহাম্মদ জাফর এবং সিইউএসএসের সহসভাপতি অতনু সিংহ।


কর্মশালার প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশন পরিচালনা করেন অটোলিনিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অটোলিনিয়াম ল্যাবের প্রধান মিনহাজ ফাহিম। এসব অধিবেশনে এআই ও প্রম্পটের মৌলিক ধারণা, এআইয়ের কার্যপ্রণালি, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পড়াশোনা ও গবেষণায় এআই ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।


শিক্ষার্থীদের কো-স্টার ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে কার্যকর প্রম্পট তৈরির কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি চ্যাটজিপিটি, নোটবুকএলএম, সেমান্টিক স্কলার, রিসার্চর‍্যাবিট ও জোটেরোর মতো বিভিন্ন টুলের ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখানো হয়। শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন প্রম্পট তৈরি এবং গবেষণার কাজে এসব টুল ব্যবহারের অনুশীলন করেন।


গবেষণায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, উদ্ধৃতির নির্ভরযোগ্যতা এবং এআই-উৎপাদিত তথ্যের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়।


কর্মশালায় উপস্থিত হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিইউএসএসের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, এআই এখন মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। চাইলেও এ প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। তবে শুধু এআই ব্যবহার করলেই হবে না; সঠিকভাবে এআইকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি, নিজেকে নিয়মিত হালনাগাদ করা এবং অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে হবে।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এআই গবেষণার কাজকে সহজ ও কার্যকর করতে পারে। তবে গবেষণায় এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়। গবেষণার কাজ আরও সঠিক ও গুছিয়ে করতে এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।


পরে কর্মশালার পৃষ্ঠপোষক, সহ-আয়োজক ও কারিগরি অংশীদারদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।


দিনের তৃতীয় অধিবেশনে এআইয়ের কারণে পরিবর্তনশীল কর্মবাজার, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন ভিএলএম রান প্রতিষ্ঠানের কারিগরি স্টাফের সদস্য মিরাজুল মহিন।


সমাপনী পর্বে বক্তব্য দেন সিইউএসএসের স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার ও ২০২৫–২৬ কমিটির সভাপতি কে এম শিফাত শাহরিন স্বচ্ছ এবং সিনিয়র সহসভাপতি আবিদুল মওলা খান। পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন কাজী শাফায়েত মাহমুদ অভি, শাহরিয়ার বিন আমীন ও মিনহাজ ফাহিম।


সিইউএসএসের সভাপতি প্রতীক দত্ত ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।