এক্সিলারেট টার্মিনাল বন্ধ, আরও তীব্র গ্যাসসংকট

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
এক্সিলারেট টার্মিনাল বন্ধ, আরও তীব্র গ্যাসসংকট

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে সরবরাহ বন্ধ হয়। এতে দেশে চলমান গ্যাসসংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এর আগে টানা ২৫ দিনের সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। তবে নতুন কার্গো না আসায় এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা মজুত দ্রুত কমতে থাকে। সোমবার থেকে সেখানকার সরবরাহও কমে আসছিল।


পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়েছে।


সূত্রগুলো বলছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কম দামে কেনা এলএনজির কয়েকটি কার্গো এ মাসে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও আসেনি। এসব কার্গো না আসায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।


কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত শনিবার সেটি পুনরায় সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকেই সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।


সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে এক্সিলারেটের জন্য ২৩ বা ২৪ আগস্ট একটি কার্গো আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন ওই টার্মিনাল বন্ধ থাকতে পারে।


দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সাধারণত প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।


এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের ৫০ কোটি ঘনফুট। গত শুক্রবার দুটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছিল ১৬৪ কোটি ঘনফুটে। পরে সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হলে শনিবার তা বেড়ে ২৪২ কোটি ঘনফুট হয়। তবে এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে রোববার ২৪০ কোটি, সোমবার ২২৮ কোটি এবং বুধবার এক্সিলারেট বন্ধ হওয়ার পর ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে।


এলএনজি থেকেও সরবরাহ কমেছে। মঙ্গলবার ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও বুধবার এক্সিলারেট বন্ধ হওয়ার পর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ কোটি ঘনফুটে। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসসংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।



এমকে/বিএম২৪