জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চার আহ্বান জাবি ভিসির
সূত্রঃ ছবি: সংগৃহীত
জাবি প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, গান, কবিতা ও শিল্পচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। একই সঙ্গে তিনি বৈচিত্র্যের নামে বিভাজন এড়িয়ে সহাবস্থানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
উপাচার্য বলেন, মাত্র দুই বছর আগে যেসব তরুণ জীবন উৎসর্গ করে নতুন পথ দেখিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ এত দ্রুত ভুলে যাওয়া দুঃখজনক। তার মতে, জুলাইকে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করলেই হবে না; এর আদর্শ সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আজও গান, কবিতা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে এখনো তেমন শক্তিশালী সাহিত্য-সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। তাই কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক কামরুল আহসান আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কখনো অশালীনতা শেখায় না। প্রতিবাদেরও শালীন ভাষা রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা, শিষ্টাচার ও দায়িত্ববোধের চর্চার মাধ্যমে জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন বিভাজন বা অন্যায়ের সুযোগ সৃষ্টি না করে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যের মধ্য দিয়েই শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মসূচি দেখে দেশে তাদের পক্ষে পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, “ফেসবুকের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার কোনো মিল নেই।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি হলে সেটিই আওয়ামী লীগের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম এবং প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









