শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইল এনসিপি

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৭ এএম
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইল এনসিপি

সূত্রঃ ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তাঁকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর মতো জাতীয় গুরুত্ববহ দিনে বাংলাদেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এনসিপির দাবি, এ ঘটনার মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের জনগণের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে।

এনসিপি আরও দাবি করে, শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক চেতনা ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।

দলটি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সুস্থ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থেও এ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এনসিপি একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকরের লক্ষ্যে কার্যকর, দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের জবাবদিহিও দাবি করে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য, সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী প্রক্রিয়া প্রত্যাশা করে, যা রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করবে।

এনসিপি জানায়, দলটি গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং সব ধরনের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অবসানের পক্ষে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কোনো সমঝোতা বা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে। দলটির মতে, প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার স্থায়ী অবসান এবং জনগণের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।