জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে কর্মসূচি নেই পাবিপ্রবি প্রশাসনের

প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে কর্মসূচি নেই পাবিপ্রবি প্রশাসনের

সংগৃহীত

মো. বাপ্পি হোসেন, পাবিপ্রবি প্রতিনিধি


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস (৭ নভেম্বর) উপলক্ষে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) কোনো আলোচনা সভা বা সেমিনারের আয়োজন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি দিবসটি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো পোস্টারও ক্যাম্পাসে লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।


দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তবে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না।


এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ২৫০টি পোস্টার ক্যাম্পাসে লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসারের কার্যালয় থেকে পাঠানো পোস্টারগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।


এ বিষয়ে প্রশাসনিক ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, বৃহস্পতিবার ছুটির দিনে জেলা তথ্য অফিস থেকে উপাচার্যের জন্য কিছু পোস্টার নিয়ে আসা হয়েছিল। সেদিন অফিস বন্ধ থাকায় তিনি উপাচার্য দপ্তরের শাকিল আহমেদ মণ্ডলকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।


দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পোস্টার না লাগানো এবং আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আয়োজন করা হয়নি। এমনকি দোয়া মাহফিলেও প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি। বিষয়টি সত্যিই হতাশাজনক।’


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কে এম তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ দায়সারাভাবে দিবসের কর্মসূচি অবহেলা করেছে।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের প্রটোকল অফিসার শাকিল আহমেদ মণ্ডল বলেন, ‘পোস্টার এসেছে, বিষয়টি আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু লাগানোর মতো কেউ ছিল না। পোস্টারগুলো এখনো রয়েছে। কখন লাগানো হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। উপাচার্য স্যারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। অফিসিয়ালভাবে ১৪ নভেম্বর দিবসটি পালন করা হবে।’


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।


এমকে/বিএম২৪