গোপন যোগাযোগে উত্তর চট্টগ্রামে যুবলীগ পুনর্গঠনের অভিযোগ
সূত্রঃ ফাইল ছবি
মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর উত্তর চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক গোপন যোগাযোগ, লিখিত আবেদন সংগ্রহ এবং রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বানের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। এসব গ্রুপে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য পদে আগ্রহীদের রাজনৈতিক পরিচয়, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে বলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফটিকছড়ি, উত্তর ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের কয়েকজন নেতাকর্মী এ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংগঠনটির অনেক শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে চলে যান বা এলাকা ছেড়ে দেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ছোট পরিসরের আকস্মিক মিছিল, অনলাইন যোগাযোগ এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সাংগঠনিক সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। কিছু সূত্রের দাবি, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অনানুষ্ঠানিক উপায়ে নেতাকর্মীদের কাছে অর্থ পাঠানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, আবেদনকারীদের রাজনৈতিক পরিচিতি ও সাংগঠনিক ইতিহাস যথাযথভাবে যাচাই না করেই পদ বণ্টন করা হয়েছে। অনেক আবেদনপত্রে অতিরঞ্জিত তথ্য, ভুয়া পদ-পদবি এবং অস্তিত্বহীন সাংগঠনিক দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
তাদের আরও অভিযোগ, কিছু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে অতীতে চাঁদাবাজি, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে প্রকৃত কর্মীদের মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
গোপন সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। প্রকাশ্য কোনো কার্যক্রম না থাকলেও অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জেলা পর্যায়েও নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেন, দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য কাজ করলেও তাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, জেলা নেতৃত্ব ও উপজেলা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি; বরং ব্যক্তিগত প্রভাব এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এতে তৃণমূলে বিভাজন ও সাংগঠনিক অস্থিরতা বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলায় সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সমন্বিত উদ্যোগের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এসব কার্যক্রম কতটা বাস্তব সাংগঠনিক উদ্যোগ এবং কতটা গোপন নেটওয়ার্কনির্ভর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। একই সঙ্গে কমিটি গঠন, আবেদনকারীদের পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।









