আওয়ামী লীগের লুটপাট থেকে গরীব উল্লাহ শাহ মাজারও বাদ পড়েনি: চসিক প্রশাসক

প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
আওয়ামী লীগের লুটপাট থেকে গরীব উল্লাহ শাহ মাজারও বাদ পড়েনি: চসিক প্রশাসক

সংগৃহীত

মোঃ কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি


আওয়ামী লীগের লুটপাট থেকে খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারও বাদ পড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাজারের বর্তমান পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।


রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মাজারের ডেকচি চুরির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং মাজার ও এতিমখানার বিভিন্ন সরঞ্জামের হিসাব যাচাই করতে তিনি সেখানে যান।


ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিগত মাজার কমিটির কর্মকর্তারা ব্যাংক হিসাব থেকে দুই দফায় সাড়ে সাত লাখ টাকা, দোকানের অগ্রিম বাবদ এক কোটি ২০ লাখ টাকা, ৬৮টি ডেকচি, কয়েকটি এসি, মাজারের আঙিনার বেশ কয়েকটি বড় গাছ এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম আত্মসাৎ করেছেন। লুটপাটের তথ্য গোপন করতে আগের কমিটির লোকজন সব হিসাব ও কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে আওয়ামী লীগের লোকজন সারা দেশে লুটপাট করেছে। মাজারও সেই লুটপাট থেকে বাদ যায়নি। আগের কমিটির অনিয়ম ও অপকর্ম আড়াল করতেই বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


মাজারের ডেকচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে এ ঘটনায় চসিক প্রশাসক শাহাদাত হোসেন ও তাঁর অনুসারীদের দায়ী করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাজার পরিদর্শনে যান তিনি।


ডেকচি গায়েবের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসক জানান, চলতি বছরের ২৫ জুন ওয়াক্‌ফ এস্টেটের পরিদর্শক মো. শাখাওয়াত হোসেনের স্বাক্ষর করা তালিকা অনুযায়ী ২০টি বড় ও ১২টি ছোট—মোট ৩২টি ডেকচি বর্তমান কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরিদর্শনের সময় তিনি নিজে গুনে দেখেছেন, তালিকাভুক্ত ৩২টি ডেকচিই বর্তমানে মাজারে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।


ডা. শাহাদাত বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে মাজারের সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে এ ধরনের লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আবু তাহের নামে যে মোতোয়াল্লি মাজারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তিনিও আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।


তিনি জানান, আগের কমিটির নিয়োগ দেওয়া মোতোয়াল্লি আবু তাহেরের কার্যক্রম স্থগিত করে চলতি বছরের ১৩ জুন তিন বছরের জন্য পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি ও ১৩ সদস্যের পরিচালনা কমিটির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়। ওই কমিটিতে পদাধিকারবলে চসিক প্রশাসক হিসেবে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পান।


প্রশাসক আরও বলেন, আগের কমিটির নিয়োগ দেওয়া মোতোয়াল্লি বর্তমান কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। এ কারণে চট্টগ্রাম ওয়াক্‌ফ এস্টেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় ২৫ জুন মাজারে থাকা ২০টি বড় ও ১২টি ছোট ডেকচিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের তালিকা তৈরি করা হয়। ওই হিসাবপত্রে ওয়াক্‌ফ এস্টেটের পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে।


মাজার পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের ওয়াক্‌ফ পরিদর্শক মো. শাখাওয়াত হোসেন, মাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি গোলাম সরওয়ার, সদস্য আবদুল হালিম স্বপন, ফারুক শিকদার, মো. রুবেল, আবদুল মান্নান, ইদ্রিস আলী, হিসাবরক্ষক আনিসুর রহমান, নবী হোসেন, রায়হান আলম ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্যরা।


এমকে/বিএম২৪