সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, জাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
সূত্রঃ সংগৃহীত
জাবি প্রতিনিধি
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম লিখন বলেন, চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে সরকার চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে তারা মনে করেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম চেতনা ছিল ‘কোটার বিরুদ্ধে, মেধার পক্ষে’। কিন্তু ভাইভার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সেই বৈষম্য নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাইভার নামে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি বা কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ স্বাধীন বাংলাদেশে মেনে নেওয়া হবে না।
রাশেদুল ইসলাম লিখন আরও বলেন, অবিলম্বে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সব চাকরিপ্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
জাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে, যা মেধাভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, আগে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে ৯০ নম্বর লিখিত পরীক্ষা ও ১০ নম্বর ভাইভা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে ১১ ও ১২তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর ৪০০, ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ২৫ করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
ফেরদৌস আল হাসান বলেন, ‘আমরা কারও দয়া বা সুপারিশে নয়, নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেতে চাই।’ তাই ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে মেধাভিত্তিক ও নিরপেক্ষ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে নয়, দেশের লাখো শিক্ষার্থীর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। যারা লাইব্রেরি, হলের রিডিং রুম ও পড়ার টেবিলে বসে ভালো চাকরি এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের অধিকার রক্ষায় এ অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষা মূলত মেধা ও যোগ্যতার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের সুযোগ দেয়, আর ভাইভা ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপনা যাচাইয়ের মাধ্যম। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার তুলনায় ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মাজহারুল ইসলাম লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের বৈষম্য দূর করে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের মাধ্যমে নিয়োগে হস্তক্ষেপ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্নের প্রতি সম্মান জানাতে দ্রুত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
এমকে/বিএম২৪








