ভারতে কারাভোগের পর বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো দুই বাংলাদেশি নারী

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
ভারতে কারাভোগের পর বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো দুই বাংলাদেশি নারী

সূত্রঃ সংগৃহীত

শার্শা প্রতিনিধি:


ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ও কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন দুই বাংলাদেশি নারী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্তের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাঁদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।


ফেরত আসা দুই নারী হলেন—নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ঘাঘা গ্রামের বি এম ল্যাবুর মেয়ে লাবনী বিশ্বাস এবং নড়াইল সদর থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিষখোলা এলাকার জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের মেয়ে মনি বিশ্বাস।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভালো কাজ ও জীবিকার আশায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ভারতে যান তাঁরা। পরে দেশটির পুলিশের হাতে আটক হলে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর বোম্মানাহাল্লি থানাসহ স্থানীয় আদালতের প্রক্রিয়ায় তাঁদের কারাভোগ করতে হয়। সাজা শেষে তাঁদের বেঙ্গালুরুর ‘বালামন্দির চাইল্ড হোমে’ রাখা হয়।


পরবর্তীতে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ভারতের চেন্নাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে গত ৩ জুলাই ইস্যু করা ট্রাভেল পারমিট এবং বেঙ্গালুরু এফআরআরও দপ্তর থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা এক্সিট পারমিটের ভিত্তিতে তাঁদের বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়।


বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় প্রত্যাবাসনের সময় ভারতের পক্ষে হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশের সদস্য, ১০২ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার এবং বোম্মানাহাল্লি থানার সাব-ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে তাঁদের গ্রহণ করেন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আইসিপি কোম্পানি কমান্ডার।


বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান জানান, কাগজপত্র যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে দুই নারীকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট পোর্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।


বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই নারীকে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব যশোরের ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি এনজিও সংস্থা নিয়েছে।


জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনেরা পৌঁছালে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে পর্যন্ত তাঁরা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের শেল্টার হোমে নিরাপদ হেফাজতে থাকবেন।


এমকে/বিএম২৪