নফসের মায়াজাল ও রবের প্রিয় হওয়ার লড়াই

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
নফসের মায়াজাল ও রবের প্রিয় হওয়ার লড়াই

আমাদের দৈনন্দিন জীবনটা যদি একটু গভীরভাবে খেয়াল করি, তবে দেখব প্রতিদিনের শত শত সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো না কোনো অদৃশ্য চাপ কাজ করছে। কখনো সেই চাপ আসে চারপাশের পরিবেশ থেকে, আবার কখনো আসে নিজের ভেতর থেকে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের ভেতরের এই যে অবিরাম অন্যায্য ইচ্ছা, লালসা কিংবা ক্ষণিক আনন্দের টান তা-ই মূলত ‘নফস’ বা প্রবৃত্তি। আর এই নফসই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সূক্ষ্ম প্রতারক।


আজকের আধুনিক যুগে প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভীড়ে নফসের এই মায়াজাল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অন্যের জীবন, সাফল্য বা ভালো কিছু দেখে আমরা সহজেই আফসোস করি, আর সেখান থেকেই মনে জন্ম নেয় হিংসা ও অসন্তোষ। নফসের প্ররোচনায় পেছনের সৎ-অসতের বিচার ভুলে আমরা রাতারাতি বেশি ইনকাম করা বা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে ছুটি। অন্যদিকে মুখ মিষ্টি রেখে আড়ালে অন্যের গীবত ও সমালোচনা করা এবং নিজের অন্যায় লুকিয়ে অন্যকে দোষারোপ করা যেন আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।


নফস আমাদের খুব সূক্ষ্মভাবে বোঝায় "আর একটু সময় নষ্ট করলে ক্ষতি কী? সবাই তো এসব করছে, আমি করলে সমস্যা কোথায়? কিংবা নিজের ভুল স্বীকার করলে তো ছোট হয়ে যাবে, দোষ অন্য কারো ওপর চাপিয়ে দাও। অন্যায়কে ন্যায় হিসেবে সাজিয়ে আর অপ্রয়োজনীয় চাওয়াকে সবচেয়ে জরুরি বানিয়ে উপস্থাপন করতেই এর সবচেয়ে বড় আনন্দ।


অথবা জীবনের আসল সৌন্দর্য কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী চাহিদার গোলামির মধ্যে নেই। বরং তা লুকিয়ে আছে নিজের সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসার মধ্যে। একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো তার রবের প্রিয় হওয়া। কিন্তু নফসের মনগড়া চাওয়ার কাছে যখন আমরা নতিস্বীকার করি, তখন সেই দূরত্বটাই দিন দিন বাড়তে থাকে। মনের ভেতর আত্মিক শান্তি বা ইমানের অনুভূতির জায়গায় তৈরি হয় এক অজানা শূন্যতা।

এই নফসের প্রতারণা থেকে বেঁচে রবের প্রিয় বান্দা হতে হলে আমাদের নতুন করে ভাবা দরকার।


দিনশেষে নিজের কাজের হিসাব নিজেরই নেওয়া উচিত। আজকে কোন কাজটা আমাকে আল্লাহর কাছাকাছি নিল, আর গীবত বা হিংসার মতো কোন কাজগুলো দূরে ঠেলে দিল। এই সহজ হিসাবটাই মনের ভুল শুধরে নিতে সাহায্য করে।

অন্যের প্রাচুর্য দেখে আফসোস না করে নিজের প্রাপ্তিতে আলহামদুলিল্লাহ বলতে শেখা এবং অসৎ উপায়ে বেশি পাওয়ার লোভ সংবরণ করাই হলো আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ।

অপরাধ করে অন্যকে দোষারোপ না করে নিজের ভুল স্বীকার করার মধ্যে আসল বাহাদুরি। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে, তবে অহংকার ত্যাগ করে তৎক্ষণাৎ অনুশোচনা নিয়ে রবের কাছে ফিরে আসার নামই ঈমানি জীবন।


নফসের সাথে এই প্রতিনিয়ত লড়াইটা সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়। নিজের ভেতরের খারাপ ইচ্ছাকে জয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে হাঁটার চেয়ে বড় কোনো বিজয় হতে পারে না। প্রবৃত্তি আমাদের যতবার ভুল পথে টানবে, সচেতনভাবে সত্য ও সুন্দরের পথে ফেরার সংকল্পই আমাদের রবের অনুগ্রহ ও ভালোবাসার কাছাকাছি নিয়ে যাবে।


লেখা: 

মোঃ জাহেরুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ