শিক্ষক নিয়োগে সিদ্ধান্ত হয়নি, নথিতে মিলছে ভিন্ন তথ্য

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫২ এএম
শিক্ষক নিয়োগে সিদ্ধান্ত হয়নি, নথিতে মিলছে ভিন্ন তথ্য

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভার কার্যবিবরণীতে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।


সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।


পোস্টে আরও বলা হয়, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ নিয়ে অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


তবে মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা গেছে, গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এনটিআরসিএ এখন থেকে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে; এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।


কার্যবিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন ও জারির কথাও বলা হয়েছে।


এই সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঢাকা, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনও সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করে বক্তব্য দেয়।


এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি সংগঠনও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, বিভিন্ন পক্ষের চাপ ও প্রতিবাদের কারণে শিক্ষামন্ত্রী ওই বক্তব্য দিয়েছেন। সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ৩ আগস্টের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।


এ বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।