সংস্কারে ফিরতে সরকারের প্রতি শফিকুর রহমানের আহ্বান

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
সংস্কারে ফিরতে সরকারের প্রতি শফিকুর রহমানের আহ্বান

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে সংস্কারের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।


বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও জনগণের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আশা করেছিল। সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল।


তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের আগে সরকার জনগণের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তার ভাষায়, এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।


জামায়াত আমির বলেন, দেশের তরুণরা যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, সেই প্রত্যাশা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো একক দলের নয়, বরং এটি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছিল।


তিনি আরও দাবি করেন, জনগণ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি চাইলেও বর্তমানে আবারও সে ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সরকারকে সংস্কারের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।


বক্তব্যে ৫ আগস্টের তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দিনটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছিল এবং সেই বাস্তবতাকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে ফেরার বিষয়টিও গণআন্দোলনের প্রভাবের ফল বলে উল্লেখ করেন।


শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা জাতির দায়িত্ব। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে, অন্যথায় জাতিকে এর মূল্য দিতে হবে।


অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে শহীদদের লেখা বিভিন্ন চিঠির সংকলন অতিথিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত সবাইকে চিঠিগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের অনুভূতি, স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের বার্তা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।


তিনি আরও বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র বা চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবেন না। জনগণের রায় ও গণভোটে প্রকাশিত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।


সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ও অস্থিরতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।


এমকে/বিএম২৪