জুলাইয়ের চেতনা হারাতে দেওয়া যাবে না: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
জুলাইয়ের চেতনা হারাতে দেওয়া যাবে না: রাষ্ট্রপতি

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে এবং জনগণের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।”


বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।


রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাদের সেই ত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে, যা জাতির ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


তিনি এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, একটি অনুষ্ঠানে তিনি এক মাকে তার দৃষ্টিশক্তি হারানো ছেলেকে নিয়ে মঞ্চে উঠতে দেখেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ওই তরুণ দুই চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব।


ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ৫ আগস্টও বাংলাদেশের ইতিহাসে গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তার ভাষায়, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর বিদেশি হানাদারদের বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রতীক, আর ৫ আগস্ট দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করার স্মারক।


তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই ভবিষ্যতে যেন জনগণ আর গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা ও পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে শুরু হতে হবে। মানুষের মানসিক পরিবর্তন ছাড়া শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান বদলে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের সূচনা হতে হবে সংবিধান থেকেই।


চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফল, যা দেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি জুলাই বিপ্লবের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অতীতের দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন ও বাকস্বাধীনতা হরণের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকাও জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।


অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের সব হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।



এমকে/বিএম২৪