ইংলিশ চ্যানেলে নৌকায় আগুন, ১৭৩ অভিবাসী উদ্ধার

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ইংলিশ চ্যানেলে নৌকায় আগুন, ১৭৩ অভিবাসী উদ্ধার

সূত্রঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে অনিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় আগুন লাগার ঘটনায় ১৭৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে ফরাসি ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ফ্রান্সের উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় পরিচালিত এ অভিযান সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সমুদ্র উদ্ধার অভিযানে পরিণত হয়।


ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌকাটি ফ্রান্সের উত্তর উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। ফরাসি ও ব্রিটিশ জলসীমার সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। এতে নৌকায় থাকা অনেকেই জীবন বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন। আগুন লাগার পর নৌকাটির কাঠামোগত অবস্থাও দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।


উদ্ধার অভিযানে ফরাসি ও ব্রিটিশ উভয় পক্ষের একাধিক উদ্ধারকারী নৌযান অংশ নেয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বুলন-সুর-মের বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাল কম্বল দিয়ে তাদের প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং পরে বাসে করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়।


এর আগে সোমবার রাতে নৌকাটি থেকে পাঁচজন যাত্রীকে উদ্ধার করে বন্দরে নেওয়া হলেও, তখন নৌকায় থাকা অন্যরা উদ্ধারকারীদের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বলে জানায় ফরাসি প্রিফেকচুর।


অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংগঠন ইতুপিয়া ৫৬ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন নারী ও শিশু পরে উত্তর ফ্রান্সের কালে শহরে পৌঁছান। তবে তাদের জন্য জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা ছিল না।


বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইংলিশ চ্যানেলে আগের তুলনায় বড় আকারের নৌকার ব্যবহার বেড়েছে। আগে যেখানে অধিকাংশ নৌকার দৈর্ঘ্য ছিল ৮ থেকে ১০ মিটার, এখন ১২ মিটারের বেশি লম্বা নৌকাও নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি নৌকায় যাত্রীর সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে।


চলতি বছরের এপ্রিলে অনিয়মিতভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া ঠেকাতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুন একটি চুক্তি হয়। বিষয়টি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে দাবি করেছে, এই উদ্ধার অভিযানে ব্রিটিশ নৌযানের অংশগ্রহণ তাদের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার কার্যকারিতার প্রমাণ। দলটি ইংলিশ চ্যানেলে ছোট নৌকায় অভিবাসী পারাপার ঠেকাতে রয়্যাল নেভি মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে।


এদিকে ব্রিটিশ বিচারমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস বলেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা কতটা বিপজ্জনক এবং মানবপাচারকারীরা মানুষের জীবনের প্রতি কতটা উদাসীন।



এমকে/বিএম২৪