১৩ শিক্ষক, ১৩ পরীক্ষার্থী—পাস করেনি কেউ

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
১৩ শিক্ষক, ১৩ পরীক্ষার্থী—পাস করেনি কেউ

সূত্রঃ সংগৃহীত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি




ঝালকাঠি সদর উপজেলার মোস্তফাবাদ কাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর দাখিল পরীক্ষায় ১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি একজনও। এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।


তবে গত বছর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল ছিল তুলনামূলক ভালো। ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় এ মাদ্রাসা থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল।


স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার সুপার কে এম আব্দুল্লাহর গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি কম থাকার পাশাপাশি শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেন কি না, তা নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। কাগজে-কলমে মাদ্রাসাটিতে ২৫২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত চার-পাঁচজনের বেশি শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।


মাদ্রাসা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও দুইজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। সব মিলিয়ে জনবল ১৬ জন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারকে প্রতি মাসে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।


সম্প্রতি সরেজমিনে মাদ্রাসাটিতে গিয়ে দেখা যায়, সুপার কে এম আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন অফিসকক্ষে বসে আছেন। তিনজন শিক্ষক তিনটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাচ্ছেন। অন্য সাতটি শ্রেণিকক্ষ ছিল ফাঁকা।


স্থানীয় বাসিন্দা বায়েজীদ হাওলাদার, মো. সরোয়ার তালুকদার ও মো. জসিমসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, অনেক শিক্ষক সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে মাদ্রাসায় আসেন। ক্লাস চলাকালে কেউ কেউ বাজারের দোকানে গিয়ে চা পান ও আড্ডা দেন। এতে শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে মাদ্রাসা থেকে চলে যায়। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটি সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার কে এম আব্দুল্লাহ বলেন, এ বছর প্রতিষ্ঠানের ফলাফল অত্যন্ত খারাপ হয়েছে, যা দুঃখজনক। তার দাবি, এবারের পরীক্ষার্থীদের ব্যাচটি তুলনামূলক দুর্বল ছিল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমে গেছে এবং তারা নিয়মিত মাদ্রাসায়ও আসে না।


মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বাবু বলেন, তিনি বেশি দিন আগে দায়িত্ব নেননি। দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদ্রাসার সার্বিক অবস্থা খারাপ বলে দেখতে পেয়েছেন। পরিস্থিতির উন্নতিতে সময় লাগবে। তবে শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। তার মতে, সুপার আরও কঠোরভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না।


এ বিষয়ে ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফলাফল কীভাবে ভালো করা যায়, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।


স্থানীয়দের দাবি, শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শিক্ষক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষেরও। তাই ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।



এমকে/বিএম২৪