নিউমার্কেটে চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার
সূত্রঃ সংগৃহীত
ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি
নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে যুবদল ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের এক দিন পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে এবং চারজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাব
এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতের দোকান বসানো ও চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের কয়েকজন অনুসারী বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তুলতে গেলে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জিহাদুল ইসলামের দাবি, প্রথমে কয়েকজন যুবদলকর্মী শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করেন এবং পরে তাঁদের নেতা কে এম চঞ্চলকে ফোন করেন। এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান।
জিহাদুল ইসলাম বলেন, হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা-কর্মী আহত হন। তাঁর নিজের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং হাতও ভেঙে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, নিউমার্কেট এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩৫০টি দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয়।
সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের বাইরে
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসান নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই দোকান সরিয়ে দিতে গেলে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে সংঘর্ষ আরও বড় আকার ধারণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে সংঘর্ষের খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট-সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে কে এম চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজির দাবি, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম ও জিহাদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, আহতদের মধ্যে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলামসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।
তবে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চল।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কে এম চঞ্চল বলেন, ফুটপাতে নিউমার্কেট থানা যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত তাঁদের মারধর করেছেন। পরে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা
সংঘর্ষের পরদিনই ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এলো। এর মধ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অপর চার নেতা সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হানকে তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিবৃতিতে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’ কথা বলা হলেও অভিযোগগুলোর বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এমকে/বিএম২৪









