ঢাবি ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, আলোচনায় একাধিক মুখ

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ঢাবি ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, আলোচনায় একাধিক মুখ

সূত্রঃ সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছে।


দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এ খবরে ক্যাম্পাসে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা বেড়েছে।


২০২৪ সালের মার্চে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য ঢাবি ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।


এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান, গাজী মোহাম্মদ আল-আমীন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নাম সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।


এ ছাড়া ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান ও আলমগীর হোসেন আলমের নামও আলোচনায় আছে।


২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় ও আবিদুল ইসলাম খান এবং ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান ও শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।


এ ছাড়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক এবং সাইফুল্লাহ সাইফের নামও আলোচনায় রয়েছে।


ঢাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ত্যাগী নেতাদের নতুন কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নেতৃত্ব নির্বাচনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব থাকবে না বলেও আশা করছেন তারা।


পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান বলেন, নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য মেধা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সমন্বয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অনুকরণীয় ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বই সংগঠনের প্রত্যাশা।


আরেক পদপ্রত্যাশী যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম বলেন, দীর্ঘদিনের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক প্রত্যাশিতভাবে গভীর হয়নি। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখা নেতাদেরই এখন নেতৃত্বে প্রয়োজন।


সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান মূল্যায়নের সময় এসেছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং যারা সংগঠনের প্রতি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা দেখিয়েছেন, নেতৃত্বের জন্য তাদেরই উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।


ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিতর্কমুক্ত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে।


এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, তাঁর কাছে কমিটি সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।


সূত্র: ঢাকা পোস্ট


এমকে/বিএম২৪