হঠাৎ দিল্লি গেলেন ভারতীয় হাইকমিশনার, কী বার্তা নিয়ে?

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ এএম
হঠাৎ দিল্লি গেলেন ভারতীয় হাইকমিশনার, কী বার্তা নিয়ে?

সূত্রঃ ফাইল ছবি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের তিন কর্মকর্তার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর আকস্মিকভাবে নয়াদিল্লি গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে তিনি দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।

পরপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই হাইকমিশনারের দিল্লি যাত্রা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসা বিভিন্ন বিষয় ও ঢাকার অবস্থান দ্রুত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতেই দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি গিয়ে থাকতে পারেন।

তবে ভারতীয় হাইকমিশন তার দিল্লি সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এটিই দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সাক্ষাৎ। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় মাসের মাথায় তিনি এ সাক্ষাৎ পেলেন। এমন সময়ে এ বৈঠক হলো, যখন ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরও ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণের বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও ভালো হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু থাকলেও উভয় দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটাই—ভালো সম্পর্ক।

দীনেশ ত্রিবেদী গত ২৫ জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। এরপর ২৯ জুলাই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় দেশটির ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো রাজনীতিবিদকে ভারত হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।