সিংগাইর থানার এসআই নাজমুলের বিরুদ্ধে চার্জার ফ্যান ও গাড়িভাড়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ এএম
সিংগাইর থানার এসআই নাজমুলের বিরুদ্ধে চার্জার ফ্যান ও গাড়িভাড়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

সূত্রঃ ফাইল ছবি

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি


মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই (উপপরিদর্শক) মীর নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে চার্জার ফ্যান, গাড়িভাড়া ও নগদ অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।


অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মামলা তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলে পক্ষপাতিত্ব, ব্যক্তিগত কাজে জিনিসপত্র ও নগদ অর্থ গ্রহণ, গাড়ি ভাড়ার বকেয়া পরিশোধ না করা এবং উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের পরিমাণ জব্দ তালিকায় কম দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে আদালতে পাঠানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম। এ ছাড়া আপন ভাই-বোনের বিরোধকে কেন্দ্র করে থানায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলার চার্জশিট নিয়েও এসআই নাজমুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।


সিংগাইর বাসস্ট্যান্ড রেন্ট-এ-কার মালিক ও শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান অভিযোগ করেন, বাসস্ট্যান্ডে একটি বিরোধের ঘটনায় পুলিশের সহায়তা চাইলে এসআই নাজমুল হাসান ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তাকে একটি চার্জার ফ্যান কিনে দিতে বলেন। তার দাবি, ফ্যানটির মূল্য বাবদ তাকে ৭ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।


জাহিদুর রহমান বলেন, “সিংগাইর বাসস্ট্যান্ডে কমিটি নিয়ে বিরোধের সময় একটি পক্ষ আমাকে সরিয়ে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করছিল। এ বিষয়ে আমি নাজমুল স্যারের শরণাপন্ন হই। তখন তিনি তার বাসায় আইপিএস না থাকায় একটি ফ্যান কিনে দিতে বলেন। পরে আমাকে ফ্যানের মূল্য বাবদ ৭ হাজার টাকা দিতে হয়।”


জাহিদের আরও অভিযোগ, ওসির কথা বলে এসআই নাজমুল তার কাছে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে উপায় না পেয়ে তিনি নগদ ৫ হাজার টাকা দেন। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এসআই নাজমুলের হুমকিতে তিনি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলেও দাবি করেন জাহিদ।


অন্যদিকে, দক্ষিণ জামশা গ্রামের বাসিন্দা অপু সরকার অভিযোগ করেন, তার প্রাইভেটকার ৭ হাজার টাকা চুক্তিতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা থেকে আসামি আনার কাজে ব্যবহার করেন এসআই নাজমুল। তবে গাড়ির চালককে ৪ হাজার টাকা দেওয়ার পর বাকি ৩ হাজার টাকা আর পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ তার।


অপু সরকার বলেন, “৭ হাজার টাকা চুক্তিতে নাজমুল স্যার আমার গাড়ি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আসামি আনার জন্য পাঠিয়েছিলেন। রাস্তায় খরচ বাবদ আমাকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর বেশ কিছুদিন ঘুরে আরও ১ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। কিন্তু বাকি টাকা আর দেননি দারোগা নাজমুল হাসান। ইন্সপেক্টর (তদন্ত) স্বপন স্যার বলার পরও বিষয়টির সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজের পকেট থেকে মহাজনকে টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।”


স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এসআই মীর নাজমুল হাসান পৌর সদরের একটি পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানিতে সহযোগিতা করছেন। ওই পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে থানায় তিনি ‘স্পেশাল দারোগা’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন বলে দাবি তাদের।


তবে এসআই মীর নাজমুল হাসান তার বিরুদ্ধে ওঠা চার্জার ফ্যান ও নগদ অর্থ গ্রহণসহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বকেয়া গাড়িভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “ওই সময় তদন্ত স্যার এসআই মেরাজুল ইসলামকে দিয়ে গাড়ি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, হয়তো কিছু কম দিতে পারেন।”


সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাহিদের কাছ থেকে ফ্যান ও টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি মাসখানেক পর শুনেছি। এছাড়া অপু সরকারের গাড়িভাড়া বকেয়া থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই।” বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।


এ বিষয়ে সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফাহিম আসজাদ বলেন, “কেউ সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”