আড়াই বছর পর হেলপার নিহতের রহস্য উদঘাটন, কাভার্ড ভ্যানচালক গ্রেপ্তার
সূত্রঃ বিডি মেইল
আমান উল্যাহ আমান, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের হেলপার সুজন মিয়া নিহতের ঘটনায় দীর্ঘ আড়াই বছর পর কাভার্ড ভ্যানচালক মো. রাশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ জুন ভোরে অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকাল ৭টার দিকে বাসটি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে হোটেল এক্সের কাছে ইউটার্ন এলাকায় ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান বেপরোয়া গতিতে বাসটির সামনের অংশে ধাক্কা দেয়।
এ সময় বাসের বাম পাশের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা হেলপার সুজন মিয়া (২৫) গুরুতর আহত হন। পরে বাসের যাত্রীরা তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সানজিদা আক্তার মিম বাদী হয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮/১০৫ ধারায় মামলা করেন।
সদর থানা পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালতের নির্দেশে গত ৯ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই গাজীপুর জেলা।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাভার্ড ভ্যানচালক মো. রাশেদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার সাভার থানার কলমা এলাকার উইন্টার গার্মেন্টসের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় রাশেদই কাভার্ড ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন। তার বেপরোয়া গতির কারণে বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারের পর সোমবার (৫ অক্টোবর) রাশেদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার, পিপিএম-সেবা বলেন, নিরাপদ সড়ক ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি নাগরিক এবং যানবাহনের মালিক-শ্রমিকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সড়কে এ ধরনের মৃত্যু কারও কাম্য নয়। গ্রেপ্তার চালককে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার অন্যান্য দিক ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে।








