সদরঘাটে জবি ছাত্রদল কর্মীদের ৪০ হাজার টাকা দাবি, ২০ হাজারে মীমাংসা

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ এএম
সদরঘাটে জবি ছাত্রদল কর্মীদের ৪০ হাজার টাকা দাবি, ২০ হাজারে মীমাংসা

সূত্রঃ ফাইল ছবি

জবি প্রতিনিধি 


রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি, মারধর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে জবি ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় লঞ্চের কর্মীরা তাদের বাধা দিলে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থীর একজন লঞ্চের এক কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুজাহিদ, তৌসিফ,  মুস্তাফিজ, ইমরোজ, সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও লোক প্রশাসন বিভাগের আলিমুল; ইতিহাস বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সাইদ ও নাইম; থিয়েটার বিভাগের ১৮তম ব্যাচের নাইম; আইইআর বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮তম ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী ছিলেন বলে জানা গেছে।


এরা সবাই জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জিয়া উদ্দিন বাসিতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।


পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের মধ্যে ফের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মী আহত হন। এ সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।


ঘটনার পর মোবাইল ফোন ভাঙচুর ও চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এ সময় ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় বলে জানা গেছে।


পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের এক কর্মী জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে গাঁজা ও বিভিন্ন মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন তিনি।


ওই কর্মী জানান, ঘটনার পর তারা লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যালয়ে বসেন। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।


প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু জানান, আর্থিক লেনদেনের সঠিক পরিমাণ তিনি বলতে পারবেন না। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।


লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন জানান, ঘটনার পর সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে বসেছিলেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।


এদিকে মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় দুইজন সাংবাদিক সেখানে গেলে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করে থাকলে তার দায় ছাত্রদল নেবে না। তবে ছাত্রদলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।