রমেকে আগুন, ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ
সংগৃহীত
আনোয়ারুল ইসলাম রনি, রংপুর ব্যুরো
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর টানা ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। এ সময় আইসিইউ ও ডায়ালাইসিসসহ জরুরি চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার পাশে থাকা একটি সুইচ বোর্ডে আগুন লাগে। পরে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে ওয়ার্ডগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে সুইচ বোর্ডে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দেখতে পেয়ে কর্তব্যরত এক নার্স ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে আগুনে সুইচ বোর্ডের সার্কিট ব্রেকার ও বৈদ্যুতিক তার পুড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেককে ছোটাছুটি করতেও দেখা যায়।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কানিজ সাবিহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছিল বলেও জানান তিনি।
প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি মেরামত শেষে দুপুর ১২টার দিকে ওয়ার্ডগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়। এরপর আইসিইউ, ডায়ালাইসিসসহ জরুরি চিকিৎসাসেবা পুনরায় সচল হয়। তবে প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ তখনো বিচ্ছিন্ন ছিল।
উল্লেখ্য, রমেক হাসপাতালে এর আগেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে আইসিইউর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় আগুন লাগার পর হাসপাতালের বড় একটি অংশ চার ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
এ ছাড়া হাসপাতালের ৪০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টিতে জরুরি জেনারেটরের সংযোগ নেই বলে জানা গেছে। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় এসব ওয়ার্ডে চিকিৎসক ও নার্সদের মোবাইল ফোনের স্বল্প আলোয় জরুরি চিকিৎসা দিতে হয়। ওয়ার্ডগুলো হলো ৬, ৭, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর।
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিকল্প ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জরুরি চিকিৎসাসেবায় এ ধরনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এমকে/বিএম২৪









