শরীয়তপুরে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার, পালালেন আরও তিনজন
ছবি: বিডি মেইল
রবিউল মোল্লা, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর সদর পৌরসভার বাগিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ মিরাজ সরদার (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও তিনজন পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে বাগিয়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলমের নির্দেশনায় পুলিশের একটি দল অভিযানটি পরিচালনা করে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শাবনুর মার্কেট এলাকায় কয়েকজন মাদক কারবারি মাদক বিক্রি করছেন—এমন তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মিরাজ সরদারকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের বেল্টের ভেতর থেকে ১০৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে পালানোর চেষ্টা করলেও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় প্রচলিত আইনে মামলা হয়েছে। পলাতক তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিরাজ সরদার খবির ছৈয়াল (৪০) নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সহযোগী। খবিরের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার মাদক বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাগিয়া, শাবনুর মার্কেট, নতুন বাসস্ট্যান্ড, প্রেমতলা, কুরাশি, বালাখানা ও দাসত্তা এলাকায় একটি চক্র মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাঁদের দাবি, এলাকায় মাদকের বিস্তারের কারণে তরুণদের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খবির ছৈয়াল একসময় আসবাবপত্রে বার্নিশের কাজ করতেন। বর্তমানে তাঁর জীবনযাপনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। মাদক ব্যবসার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এই বাসিন্দা।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিরাজ সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে ১০৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অন্য তিনজন পালিয়ে যান। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








