বাংলাদেশের দুর্গাপূজার প্রশংসায় ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ, বললেন ‘সাবাশ বাংলাদেশ!’

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
বাংলাদেশের দুর্গাপূজার প্রশংসায় ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ, বললেন ‘সাবাশ বাংলাদেশ!’

সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


বাংলাদেশের এবারের দুর্গাপূজার আয়োজন ও প্রতিমার প্রশংসা করেছেন ভারতের টেলিভিশন উপস্থাপক ও সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলোর নান্দনিক আয়োজন তাঁকে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশের পূজার প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পুজো এবার চমকে দেওয়ার মতো। সাবাশ বাংলাদেশ!’


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।


গত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে আলোচনায় আসা ময়ূখ রঞ্জন তাঁর পোস্টে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলোর বিশেষ প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, তাঁকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে চট্টগ্রামের পূজার আয়োজন। কলকাতার বিভিন্ন পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থার চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলোর জন্য পুরস্কার রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সম্ভব হলে কুরিয়ারের মাধ্যমে এসব পূজামণ্ডপকে সম্মাননা জানানোর পরামর্শও দেন।


চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে ষোড়শীকুঞ্জ সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ (কোতোয়ালী) এবং উত্তর কাট্টলী তালুকদার বাড়ি (বাণী মন্দির) প্রাঙ্গণের আয়োজনকে নিজের চোখে সমানভাবে সেরা বলে উল্লেখ করেন ময়ূখ। এরপর খলিফাপট্টি ও ব্রজধাম স্মৃতি সংসদসহ অন্য পূজামণ্ডপগুলোর কথা তুলে ধরেন তিনি। যেসব আয়োজন তাঁর চোখে পড়েনি, সেগুলো সম্পর্কে জানাতে অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে পরেরবার সেগুলো নিয়ে আগেভাগে প্রচার করতে পারেন।


বাংলাদেশের পূজার ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ময়ূখ লেখেন, এ বছর অনলাইনে বাংলাদেশের অনেক প্রতিমা দেখেছেন তিনি। ভবিষ্যতে সরাসরি বাংলাদেশে এসে হেঁটে হেঁটে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ফুচকা ও মসলা কোলার মতো খাবারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে জানতে চান, সেখানে আর কী কী খাবার পাওয়া যায়।


ময়মনসিংহের দুর্গাবাড়ি রোডে সিঁদুরখেলার মিছিলেরও প্রশংসা করেন তিনি। দেবের ‘ভজগৌরাঙ্গের নাম রে’ গানের তালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করেন। আগামীবারের আয়োজনে সুপারস্টার দেবের সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি ঢালিউড তারকা শাকিব খানকেও যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।


এ ছাড়া কুমিল্লার পূজা ও রথযাত্রার আয়োজনের প্রশংসা করেন ময়ূখ রঞ্জন। তবে কুমিল্লা ও সিলেটে তাঁর চোখে উল্লেখযোগ্য থিমভিত্তিক পূজা পড়েনি বলে জানান। যেসব আয়োজন তাঁর নজর এড়িয়ে গেছে, সেগুলো সম্পর্কে তাঁকে ট্যাগ করে জানানোর অনুরোধ করেন।


পোস্টের শেষাংশে কুমিল্লার বরুড়া গ্রামের পূজা নতুন করে আয়োজনের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় ওই গ্রামে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা হতো। সেই ঐতিহ্য ফিরে আসার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজের শিকড় ও ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।


এমকে/বিএম২৪