বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঝিনাইদহে পালিত হলো বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী
সূত্রঃ সংগৃহীত
মোঃ আসাদুজ্জামান;বিশেষ প্রতিনিধি
বর্ণাঢ্য আয়োজন, বর্ণিল শোভাযাত্রা ও জাঁকজমকপূর্ণ আনন্দ মিছিলের মধ্যে দিয়ে ঝিনাইদহে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।
মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর) সকালে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি'র কার্যালয়ে ছোট-বড় খণ্ড-খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজির হয় সহস্র নেতা-কর্মী। পরে, দুপুরে জেলা বিএনপি'র কার্যালয় থেকে এক বর্ণিল শোভাযাত্রা ও আনন্দ মিছিল বের হয়। শোভাযাত্রা ও মিছিলটি শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পায়রা চত্বরে এসে শেষ হয়।
পরে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী'র রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপি'র সভাপতি অ্যাড. এম. এ. মজিদের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকরী রাশেদ খান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া'র মহান আদর্শ ও দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বলেন,
"পতিত আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করতেই জামায়াত ও এনসিপি জোটবদ্ধ হয়ে চক্রান্তের রাজনীতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন,
"আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ফেরার ঘোষণা এবং একই সময়ে জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের কর্মসূচি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি এক গভীর চক্রান্তের অংশ।"
তিনি আরও বলেন,
১৯৯৬ সালের প্রেক্ষাপটে যেভাবে জামায়াত আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল, ঠিক একইভাবে আজও তারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজপথে ফেরানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
সম্প্রতি, সারাদেশ ব্যাপী আলোচিত ‘মক্কা সামরিক চুক্তি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
"এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম ও জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে এবং দেশের বড় একটি অংশও তা সমর্থন করছে। তবে, সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক কৌশল ও সার্বিক নিরাপত্তার দিকটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করে তবেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে।"
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে দলছুট ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে ফেরা নিয়ে রাশেদ খান স্পষ্ট করে বলেন,
"জাতীয় নির্বাচনে যেসব নেতাকর্মী ভুল বুঝে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েছেন, অনুশোচনা প্রকাশ করলে দলীয় হাইকমান্ড তাঁদের বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে। কিন্তু, যাঁরা সরাসরি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তাঁদের দলে ফেরানোর ব্যাপারে দল এখনো কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়নি।"
সেসময়, উপস্থিত নেতা-কর্মীরা আবেগঘন কণ্ঠে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গগনবিদারী স্লোগান ও নানামুখী বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বারবার স্মরণ করেন।
এদিকে গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ৪৮টি বছর পেরিয়ে বিএনপি পা রাখলো, ৪৯তম বর্ষ পঞ্জিতে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, উত্তাল ৭১-এঁ রণাঙ্গনের অগ্রনায়ক ও জেড ফোর্স প্রধান, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার তথা, অভাগা এই রাষ্ট্রের ৫৫ বছরের ইতিহাসে একমাত্র স্টেটম্যান হিসেবে সুপরিচিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এঁর হাতে ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর দলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
এমকে/বিএম২৪









