বগুড়ায় ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা, ফিরল গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য
সংগৃহীত
নাজিরুল ইসলাম, বগুড়া প্রতিনিধি
একসময় গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাট, হাট-বাজার কিংবা বাড়ির উঠানে বসত নানা ঐতিহ্যবাহী খেলার আসর। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা সেই গ্রামীণ ঐতিহ্য আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে বগুড়ায়। বগুড়া সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. এখলাসের উদ্যোগে আয়োজিত এ খেলাকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
দীর্ঘদিন পর ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে বিকেল থেকেই বিদ্যালয় মাঠে ভিড় জমাতে থাকেন নানা বয়সী মানুষ। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত দর্শক খেলা উপভোগ করতে ছুটে আসেন। শিশু-কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণদের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ পরিণত হয় আনন্দমুখর মিলনমেলায়।
খেলার প্রতিটি পর্বে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ। খেলোয়াড়দের কৌশল, বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়। খেলায় অংশ নেন আজিম ফকির, চান মিয়া, মুরগি মোফা, রেজাউল, জাহাঙ্গীর ও ইউসুব। তাঁদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে জমে ওঠে খেলার আসর।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাখারিয়া ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বজলার রহমান, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাব্বি হাসান ও সদস্য সোহেল রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকরা জানান, পাতা খেলা গ্রামবাংলার একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত ঐতিহ্যবাহী খেলা। কালের বিবর্তনে আধুনিক বিনোদনের প্রসারে খেলাটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলার পরিচয় তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাতা খেলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ধরনের আয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে। নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুবসমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. এখলাসের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ খেলাধুলাকে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এ আয়োজন এলাকার মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেছে।
দিনশেষে পাতা খেলার এ আয়োজন শুধু একটি খেলার আসরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং হয়ে উঠেছিল গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, আনন্দ আর মিলনমেলার এক প্রাণবন্ত উৎসব।
এমকে/বিএম২৪









