স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান না এলে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকত না: বাকৃবি উপাচার্য
সংগৃহীত
বাকৃবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। দেশের ক্রান্তিলগ্নে হাল ধরে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান না এলে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকত না।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য আরও বলেন, জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানও এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কৃষি নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন এবং কৃষির উন্নয়ন নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীমের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদ, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক এবং সোনালী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্ট, ছাত্রনেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর বিভিন্ন ছাত্রনেতা তাঁদের বক্তব্যে দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের চেতনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভার পরবর্তী পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ঘটনাপ্রবাহ ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে শিক্ষার্থীরা একটি বিশেষ ঐতিহাসিক দিবস ও এর প্রকৃত ইতিহাস থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে বর্তমানে তরুণ সমাজ সুস্থ জাতীয়তাবাদী আদর্শে উজ্জীবিত। তাদের সামনে দিবসটির সঠিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনায় সবাইকে কাজ করে যেতে হবে। আগামীর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই দেশপ্রেমিক, যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রস্তুতি নিতে হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবেন। আগ্রহীদের আগামী ৯ নভেম্বরের মধ্যে রচনা লিখে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টার কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
এমকে/বিএম২৪









