দেশের ভেতরে-বাইরে ষড়যন্ত্রকারীদের একে একে জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
দেশের ভেতরে-বাইরে ষড়যন্ত্রকারীদের একে একে জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না। দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের একে একে জবাব দেওয়া হবে।


শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত র‍্যালিপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার মূল প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, যেখানে জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা বিভিন্ন সময়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।


১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ আবারও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো অপশক্তিই তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না।


তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের আন্দোলন ছিল না, একই সঙ্গে এটি স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশ।


রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে জাতীয় স্বার্থ ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে বিভেদ থাকা উচিত নয়।


দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।


এমকে/বিএম২৪