নাসিরনগরে দুই অলির ইছালে ছাওয়াব মাহফিল উপলক্ষে ‘নাসিরনগরের সভা’ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
নাসিরনগরে দুই অলির ইছালে ছাওয়াব মাহফিল উপলক্ষে ‘নাসিরনগরের সভা’ অনুষ্ঠিত

ছবি: বিডি মেইল

খ. ম. জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আধ্যাত্মিক জগতের দুই প্রথিতযশা অলির স্মরণে ইছালে ছাওয়াব মাহফিল উপলক্ষে ‘নাসিরনগরের সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বাদ আসর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নাসিরনগর উপজেলা পিটিআই সুপার মার্কেট প্রাঙ্গণে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরিফের দুই পীর শাহসূফী সৈয়দ আব্দুল সাত্তার নকশেবন্দী মোজাদ্দেদী ফান্দাউকী (রহ.) ও আলহাজ্ব সৈয়দ নাহিরুল হক মাসুম আল কাদেরী চিশতী নকশেবন্দী মোজাদ্দেদী ফান্দাউকী (রহ.)-এর ইছালে ছাওয়াব উপলক্ষে নাসিরনগরের ভক্ত-মুরিদরা এ আয়োজন করেন।


বাংলাদেশ আঞ্জুমানে খাদেমুল ইসলামের আমির ও ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরিফের গদ্দিনশিন পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ ছালেহ আহমাদ মামুন আল হোসাইনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ফান্দাউক দরবার শরিফের মুবাল্লিগ হযরত মাওলানা হাফেজ মো. মামুন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটরশি দরবার শরিফের খাদেম হযরত মাওলানা প্রফেসর আমিনুল ইসলাম চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন ফান্দাউক দরবার শরিফের মুবাল্লিগ হযরত মাওলানা হুমায়ুন কবির।


এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সিনিয়র শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, স্থানীয় মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা হাফেজ আতাউর রহমান, হযরত মাওলানা মো. জাবের আহমেদ মাসুমীসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভক্ত, মুরিদ ও আশেকানরা।


মাহফিলে খতমে কোরআন, খতমে বুখারি, খতমে খাজেগান ও খতমে দালাইলুল খাইরাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি মিলাদ, কিয়াম শরিফ, জিকির-আজকার ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা ছিল আয়োজনের অন্যতম অংশ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠান ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।


আলোচনায় বক্তারা বলেন, ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই মানবজাতির শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে। প্রকৃত মুমিন হতে হলে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের পাশাপাশি আল্লাহর অলি-আউলিয়াদের প্রতি ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করে জীবন পরিচালনা করতে হবে।


অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে মুসলিম উম্মাহ, বিশ্বমানবতার কল্যাণ ও শান্তি এবং দেশ ও জাতির উন্নতি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।