মাদক কারবারে জড়িত নেতাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই: ইশরাক

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
মাদক কারবারে জড়িত নেতাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই: ইশরাক

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


মাদক কারবারে জড়িত রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।


তিনি বলেন, মাদক একটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।


শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।


ইশরাক হোসেন বলেন, মাদক পরিবহন ও বিস্তারে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে একাধিক সিন্ডিকেট কাজ করে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও জড়িয়ে পড়েন। তবে কোনো একটি সংস্থার সবাই এ কাজে জড়িত, এমনটা নয়।


তিনি বলেন, মাদক অন্য অপরাধের মতো নয়। এটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দেয়। রাজনীতিবিদেরা জনগণের বিশ্বাস নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান। সেই রাজনীতিবিদদের কেউ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।


মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আলোচনা ও সভা-সেমিনামে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংসদ সদস্য ইশরাক। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি জাতীয় গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ৮২ লাখ অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী রয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। এদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ২৫ বছর বয়সের আগেই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধের পাশাপাশি যারা ইতোমধ্যে আসক্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার থেকে সন্তানদের প্রতি নজরদারি ও সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।


নিজের নির্বাচনি এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইশরাক বলেন, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। জুরাইন রেলগেট থেকে গেন্ডারিয়া ঘুণ্টিঘর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল টপকে অল্পবয়সী শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের সেখানে প্রবেশ করে মাদক সেবনের দৃশ্যের ফুটেজ দেখে তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছেন। সেখানে মাদক বিক্রেতারাও প্রবেশ করে মাদক বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।


মাদক সরবরাহের উৎস ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে ইশরাক বলেন, মাদকের চাহিদা থাকলে সরবরাহও থাকবে। পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তবে সরবরাহব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে হবে।


নিজের অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু নামকরা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাদক পরিবহনের ঘটনা দেখা গেছে।


ইশরাক জানান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির সঙ্গে যৌথভাবে একটি অলাভজনক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর মাধ্যমে সারা দেশে আলোচনা সভা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।


এমকে/বিএম২৪