দেড় বছর স্কুলে অনুপস্থিত, হাজিরায় নিয়মিত শিক্ষক

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১১ এএম
দেড় বছর স্কুলে অনুপস্থিত, হাজিরায় নিয়মিত শিক্ষক

সূত্রঃ সংগৃহীত

বরগুনা প্রতিনিধি


বরগুনার আন্ধার মানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুয়েল মিয়া প্রায় দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাচ্ছেন না। তবে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় তাকে নিয়মিত উপস্থিত দেখানো হচ্ছে এবং মাস শেষে তিনি বেতনও পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক প্রায় দেড় বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে চারজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। তাদের মধ্যে একমাত্র পুরুষ শিক্ষক জুয়েল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। ফলে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।


গত ১৯ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে জুয়েল মিয়াকে পাওয়া যায়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অন্য সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। উপজেলা শিক্ষা অফিসের দাফতরিক কাজে তাকে সেখানে রাখা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নিয়োগ পাওয়া একজন শিক্ষককে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বাইরে রেখে অন্য দফতরের কাজে ব্যবহার করা হলে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়। তাদের দাবি, দ্রুত জুয়েল মিয়াকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে নিয়মিত পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে।


সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে তার হাজিরা নিয়ে। বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পরও কীভাবে হাজিরা খাতায় তাকে নিয়মিত উপস্থিত দেখানো হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।


এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা জেরিনা আক্তার বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসে কম্পিউটারভিত্তিক কাজ করার মতো পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় প্রয়োজনীয় দাফতরিক কাজ জুয়েল মিয়াকে দিয়ে করানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।


জুয়েল মিয়া বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই তাকে অফিসের কাজে রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে বললে তিনি সেখানে চলে যাবেন। তিনি বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তারা যেখানে দায়িত্ব পালন করতে বলবেন, সেখানেই তাকে যেতে হবে।


বিদ্যালয়ের এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জানায়, জুয়েল স্যার দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসছেন না। এ কারণে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। প্রধান শিক্ষক না থাকায় এবং একজন শিক্ষক অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় তাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। তারা দ্রুত সব শিক্ষককে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদানে দেখতে চায়।


বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির নবগঠিত সহসভাপতি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। কাগজে চারজন শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে তিনজনকে। এর মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জুয়েল মিয়াকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।


শিক্ষক সংকটের মধ্যে দীর্ঘদিন একজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের বাইরে রেখে দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত রাখা এবং হাজিরা খাতায় তার নিয়মিত উপস্থিতি দেখানোর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।



এমকে/বিএম২৪