নেপালের ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার নেপথ্যে কী?

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
নেপালের ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার নেপথ্যে কী?

সূত্রঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় বুধবার সকালে ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক হড়পা বানে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হিসাবে, প্রায় ৬০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৯৩ জন বিদেশি পর্যটক। নিখোঁজদের অনেকেই কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন।


আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক ধারণা, তুষারধস থেকেই এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত। তুষারধসে পাথর ও বরফের স্তূপ জমে নদীর প্রবাহ আটকে যায়। পরে পানির চাপ বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে সেই প্রাকৃতিক বাধ ভেঙে গেলে প্রবল স্রোত নেমে আসে ভোটেকোশি নদীতে।


নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি নদী লেহন্দে ভোটেকোশির একটি প্রধান শাখা। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধসে লেহন্দের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হিমবাহের বরফগলা পানিতে পূর্ণ কোনো হ্রদও ভেঙে যেতে পারে।


নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খনাল পার্লামেন্টে জানান, বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটের দিকে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর পরপরই তুষারধসের ঘটনা ঘটে। সরকারি প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ভোটেকোশিতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তবে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ এখনও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।


কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের মতে, তুষারধসে লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেখানে পানির চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেই চাপ পাথরের স্তর ভেঙে দিয়ে বিপুল পানির প্রবাহ ভোটেকোশিতে নামিয়ে আনতে পারে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, বন্যার পানির স্রোত চীন-অধিকৃত তিব্বতের দিক থেকে এসেছে। তবে ভূবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে নেপালের দিকের তুষারধসও এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।


এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বতীয় ভূখণ্ডে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর উপকেন্দ্র রাসুয়া জেলার গোঁসাইকুণ্ডের প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে ছিল। ভূমিকম্প ও তুষারধসের মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।


হড়পা বানে রাসুয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নুয়াকোট ও ধাদিং জেলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়েও ভোটেকোশি নদীতে একই ধরনের আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। সে সময় অনুসন্ধানে দেখা যায়, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহের হ্রদ ভেঙে লেহন্দে নদীতে আকস্মিক পানির স্রোত নেমে এসেছিল।


হিমালয়ে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন গবেষকেরা। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলছে। ১৯৭৫ থেকে ২০০০ সালের তুলনায় ২০০০ সালের পর হিমবাহ গলার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে আসে।


গবেষকদের মতে, হিমবাহ গলার পাশাপাশি বন উজাড়, অপরিকল্পিত নির্মাণ ও পাহাড়ে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন ভবিষ্যতে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। ফলে হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি।



এমকে/বিএম২৪