জাবিপ্রবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, ইতিহাস জানার আহ্বান

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
জাবিপ্রবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, ইতিহাস জানার আহ্বান

সংগৃহীত

মো: ইকরাম মাহমুদ প্রধান, জাবিপ্রবি প্রতিনিধি


জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।


শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আমির হোসেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শরীফ আর রাফি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সারওয়ার জাহান।


প্রধান আলোচকের বক্তব্যে প্রফেসর শরীফ আর রাফি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ জনযুদ্ধ হলেও তৎকালীন কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না। ২৫ মার্চের আক্রমণ পাকিস্তানি বাহিনীর দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও সিপাহিরাই প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সে সময় মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।


৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশকে সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান রেমিট্যান্স, কৃষি ও তৈরি পোশাক খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এ সময় নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আমির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২৫ মার্চের পর জাতি যখন দিশেহারা ছিল, তখন মেজর জিয়াউর রহমান আলোর দিশা দেখিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে তিনি দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন। পাশাপাশি কৃষি, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক খাতকে শক্তিশালী করে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।


তিনি আরও বলেন, সমাজের বিচক্ষণ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে রাজনীতি পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। বর্তমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।


সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করে না এবং সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের ইতিহাস সম্পর্কে জানার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান, সহকারী প্রক্টর ড. আব্দুস সাত্তার, সহকারী অধ্যাপক ড. আল মামুন সরকার, ড. মাহমুদুল আলম শুভ, ইমরুল কবির, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এ কে এম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং সদস্যসচিব যীনাত মিয়া আজিজুলসহ অনেকে।


অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


এমকে/বিএম২৪