জমি বিরোধে সারের দোকানে তালা, বিপাকে ৫ শতাধিক কৃষক
সূত্রঃ ফাইল ছবি
মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভাগড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি সারের দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে বিপাকে পড়েছেন ওই দোকানের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাগড়া মৌজার ২য় খণ্ডের জেএল নং-২২৮, আরএস/আরওআর ১১৭ ও বিআরএস ১৩৯ নম্বর খতিয়ানের আওতাধীন জমির একটি অংশ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ও নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ের মাধ্যমে ৬ শতাংশ জমি কেনার জন্য ভাগড়া গ্রামের মো. কামরুজ্জামান নির্মলা দালবতের সঙ্গে বায়না দলিল করেন। জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে তিনি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের পর জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল।
এর আগে একই জমি নিয়ে নির্মলা দালবত কামরুজ্জামানের সঙ্গে আরেকটি বায়না দলিল করেছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দলিলে তিনি নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে দাবি কামরুজ্জামানের।
বায়না করার পর কামরুজ্জামান ওই জমিতে দোকান নির্মাণ করে সার বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘদিন পার হলেও জমি রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ায় গত ২৭ আগস্ট তিনি শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া নির্মলা দালবতকে সমন দিয়ে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
কামরুজ্জামানের অভিযোগ, সমন জারির পর ক্ষুব্ধ হয়ে নির্মলা দালবত ও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ২৮ আগস্ট তার সারের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে স্থানীয় কৃষকেরা সার কেনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন।
এ ঘটনায় ওই দিনই জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কামরুজ্জামান। তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাকে হত্যা ও গুমের হুমকি দেন। পরে গত ৩০ আগস্ট তিনি জামালপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির নম্বর ২১০৫।
কামরুজ্জামানের আরও অভিযোগ, জিডি করার পরও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার বাড়িতে গিয়েও ‘যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে গত ১ সেপ্টেম্বর জামালপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করেন কামরুজ্জামান।
কামরুজ্জামান বলেন, ‘নির্মলা দালবতের কাছ থেকে বায়না সূত্রে জমি কিনে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি জমি লিখে দিচ্ছেন না। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করি। এরপর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দেয় এবং আমাকে হত্যার হুমকি দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই নির্দেশনা অমান্য করে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও গুমের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’
এ বিষয়ে নির্মলা দালবতের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমকে/বিএম২৪









